আজ যশোর মহিলা আ’লীগের সম্মেলন

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ নারী নেত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আজ। সম্মেলন ঘিরে মহিলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। সভাপতি ও সম্পাদক পদের জন্য মাঠের লড়াইয়ে নেমেছেন ৮ নেত্রী। প্রার্থীদের মধ্যে থেকে তৃণমূলের ভোটাভুটিতে মহিলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করুক এমনটিই প্রত্যাশা অধিকাংশ নেতাকর্মীর। এদিকে, সম্মেলন সফল করতে গতকাল প্রচার মিছিল বের করেন নেতাকর্মীরা। মিছিলটি যশোর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মহিলা আওয়ামী লীগ সূূত্র জানায়, আজ সকাল ১০টায় যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে যশোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাফিয়া খাতুন। প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য।
সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ২৭ অক্টোবর সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগে কমিটি গঠন করা হয়। ৭১ সদস্যের এই কমিটি রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচির পালন করে আসছে। তবে ইতিমধ্যে সম্পাদকসহ ১১ নেত্রী মারা গেছেন। দীর্ঘদিন পর এই সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্মেলনে সভাপতি পদের জন্য প্রচারণায় রয়েছেন বর্তমান সভাপতি ও সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরজাহান ইসলাম নীরা, প্রচার সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাইজু জামান, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজা খাতুন গিনি এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি নাছিমা আক্তার জলি।
আর সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জোসনা আরা বেগম মিলি, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজেরা পারভীন, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেহেনা পারভীন এবং ৩নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রিনি বেগম। সম্মেলনে সম্ভাব্য এই প্রার্থীদের মধ্যে থেকে ১৩৪ কাউন্সিলর তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সভাপতি প্রার্থী নূরজাহান ইসলাম নীরা জানান, দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের আয়োজন করায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। সম্মেলন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের নেতকর্মীদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের দাবির উপর ভরসা করে আবার সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।
আরেক সভাপতি প্রার্থী মাহফুজা খাতুন গিনি বলেন, ভোটের জন্য কাউন্সিলররা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরাসরি ভোট হলে লড়াই করবো। তবে সভাপতি প্রার্থী ও বর্তমান প্রচার সম্পাদক লাইজু জামান বলেন, দুই যুগে গঠিত এই কমিটি নামমাত্র কয়েকটি সভা করেছে। আজ্ঞাবহদের দিয়ে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন সম্ভব নয়।
আরেক সভাপতি প্রার্থী নাছিমা আক্তার জলি দাবি করেছেন, তৃণমূলের নেতকর্মীদের প্রত্যাশা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জোসনা আরা বেগম মিলি বলেন, দীর্ঘদিন জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে থেকে রাজপথে রাজনীতি করেছি। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত করতে চাই। তবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মহিলা আওয়ামী লীগ সদস্য হাজেরা পারভীন দাবি করেন, বিগত কমিটি তেমন কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা দেখাতে পারেনি। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি নির্বাচনের দাবি জানাবো।
যদিও অপর দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রেহেনা পারভীন ও রিনি বেগম জানান, সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বেশ সাড়া পড়েছে। তৃণমূল থেকে দাবি উঠেছে, ভোটাভুটি করে মূল নেতৃত্ব নির্বাচন করার। ভোট হলে দু’জনেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার