১২ অক্টোবর থেকে যশোরে সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে আগামী ১২ অক্টোবর শনিবার থেকে তৃতীয় বারের মতো সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব-২০১৯ শুরু হচ্ছে। নাট্য সংগঠন বিবর্তনের ৩০ তম পদার্পন উপলক্ষে ‘দ্রোহ প্রেম ঐতিহ্যের স্বপ্নযাত্রা..’-এমন প্রতিপাদ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বনামধন্য আটটি নাট্যদল নাটক মঞ্চস্থ করবেন।
এবারকার নাট্যোৎসবের আয়োজন সম্পর্কে জানান দিতে গতকাল বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ নাট্য উৎসবের উদ্বোধন করবেন। উৎসবে কলকাতার টালিউড পাড়ার অঞ্জনা বসু, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবশঙ্কর হালদার ও চৈতী ঘোষালের মত জনপ্রিয় অভিনেতা নাট্যমঞ্চ মাতাতে যশোরে আসছেন। এছাড়া বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা অনন্ত হীরা, রমিজ রাজু, নুনা আফরোজ ও লিয়াকত আলী লাকীও থাকবেন। এবারের নাট্য উৎসবে নাটক মঞ্চায়নের পাশাপাশি একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আক্টোবর ‘রাজনৈতিক, সামাজিক ও শৈল্পিকতায় নাট্যকর্মীদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ও বিবর্তন যশোরের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির উপদেষ্টা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু, বিবর্তনের উপদেষ্টা অর্চনা বিশ্বাস, উৎসব কমিটির উপদেষ্টা ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সভাপতি সাজেদ রহমান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বৈদ্যনাথ অধিকারী, উৎসবের সদস্যসচিব ও বিবর্তন যশোরের সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান রনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠান উপ-কমিটির আহ্বায়ক এইচআর তুহিন, সংগঠনের সহসভাপতি নওরোজ আলম খান চপল, সহ সাধারণ সম্পাদক মানস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রিপন প্রমুখ।

সাতদিনে আটটি নাটক
উৎসবের প্রথমদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মঞ্চ আলোকিত করবে ঢাকার জনপ্রিয় ‘লোক নাট্যদল’। ‘আমরা তিনজন’ নাটক নিয়ে দলটি মঞ্চ মাতাবে। বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে এই নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী। দ্বিতীয়দিন সন্ধ্যায় আয়োজক সংগঠন বিবর্তন যশোর মঞ্চস্থ করবে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাংস্কৃতিক জীবনধারা নিয়ে নির্মিত নাটক ‘মাতব্রিং’। সাধনা আহমেদের রচনায় এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক। তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে ঢাকার জনপ্রিয় নাট্যদল ‘প্রাঙ্গণে মোর’র নাটক ‘ঈর্ষা’। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ও মঞ্চ অভিনেতা অনন্ত হীরা। চতুর্থদিন চুয়াডাঙ্গার অনির্বাণ থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে ‘জিষ্ণুযারা’। এ নাটকের নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় করেছেন আনোয়ার হোসেন।
আর পঞ্চমদিন ‘প্রাচ্য কলকাতা’র নাটক-‘খেলাঘর’। হেনরিক ইবসেনের ‘এ ডলস হাউস’ গল্প অবলম্বনে খেলাঘরের নাট্যরূপ দিয়েছেন রতন কুমার দাস। নির্দেশনা দিয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়। ষষ্ঠদিন পশ্চিমবঙ্গের ঋত্বিক বহরামপুর মঞ্চায়ন করবে গ্রামীণ জীবনযাত্রার উপর নির্মিত কাব্য গীতিনাট্য ‘চম্পাবতী’। অমর কবি জসীম উদ্দীনের ‘বেদের মেয়ে’ অবলম্বনে সৈয়দ শামসুল হক এই নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন। মঞ্চভাবনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিপ্লব দে। সমাপনী দিনে পরপর দুইটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রথমে মঞ্চস্থ হবে কোলকাতার অঙ্গন বেলঘড়িয়ার নাটক ‘ফিরে পাওয়া’। যার নাট্যকার বেবি সেনগুপ্ত। আলোক পরিকল্পনা ও নিদের্শনা দিয়েছেন অভি সেনগুপ্ত। এরপর মঞ্চে আসবে পশ্চিমবঙ্গের ‘যুগের যাত্রী চন্দননগর’র নাটক ‘চাঁদসওদাগর’। শঙ্কর বসু ঠাকুরের রচনায় রামকৃষ্ণ ম-ল এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন।
একসাথে আটটি নাটককের জন্যে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ও ৫০০ টাকা। এছাড়া প্রতিদিনের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ ও ১০০ টাকা।

শেয়ার