যশোর মেডিকেল কলেজ আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ২৫ জনের অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর মেডিকেল কলেজে আউট সোর্সিংয়ে কর্মরত ২৫জন অফিস সহায়ককে কলেজ কর্তৃপক্ষ চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। গত বুধবার সকালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ কর্মচারীদের দেওয়া হয়। কলেজ অধ্যক্ষ বলছেন, গত ১০ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখার স্মারক নং ১৭.১৫৩.০২৯.০৭.০০.০১.২০১৯ একটি পরিপত্র হাতে পেয়ে বর্তমান কর্মরত আউট সোর্সিং ২৫ জন অফিস সহায়ককে বুধবার থেকে বাদ দিয়েছেন।
এদিকে বাদ পড়া অফিস সহায়করা অভিযোগ করেছেন, নতুন করে নিয়েগের মাধ্যমে কোটি টাকা অর্থ বাণিজ্য করার জন্য কর্মরত ২৫ জন আউট সোর্সিং অফিস সহায়ককে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এই শূন্য পদে নতুন করে জনবল নিয়োগ দিতে পারে কর্তৃপক্ষ। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ ‘আউট সোর্সিং স্টাফ নিয়োগ ও তদারক কমিটির সদস্য ডা. আক্তারুজ্জামান, ডা. দিন উল ইসলাম, ডা. আবুল কাশেম কবির ও ডা. গোলাম ফারুক কিছুই জানেননি। বিষয়টি শুনে কমিটির সদস্যরা নয় অক্টোবর দুপুরে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. গিয়াস উদ্দিনের কাছে যান। কিন্তু সে বিষয়ে স্পষ্ট কোন উত্তর আসেনি।
কলেজের প্রশাসনিক সূত্র মতে, গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে যশোর মেডিকেল কলেজে ৬৫ জন ৪র্থ শ্রেণীর আউট সোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের মধ্যে ২৫ জন অফিস সহায়ক পদ রয়েছে। কিন্তু ডা. গিয়াস উদ্দিন আউট সোর্সিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উষা এসসি লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মাদ টিটোর ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ হোসেন কৌশলে এই টেন্ডার বন্ধ রাখেন। ফলে কর্মচারীরা ঠিকাদারদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এমনকি বেতনের সময় তাদের কাছ থেকে ঠিকাদার ফিরোজ পাঁচ হাজার টাকা আদায় করতেন। এভাবে ঠিকাদারের আদায় হতো সোয়া তিন লাখ টাকা। এই টাকার একটি অংশ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে হিসাবরক্ষক জয়নাল আবেদিন, প্রধান অফিস সহকারী আব্দুস সবুর খান ও স্টোর কিপার আতিয়ার রহমানের পকেটে যেত। এক পর্যায়ে অফিস সহায়ক পদে কর্মরতরা তাদের মেহনতের টাকা দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ সময় বাকি ৪৫ জনও তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলন করেন। তখন বাধ্য হয়ে ওই ৫ হাজার টাকা নেয়া বন্ধ হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় এই ২৫ জন অফিস সহায়ক। সেই রাগে ওই ২৫ জন অফিস সহায়ক আউট সোর্সিং কর্মচারীকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেবার হুমকি দেয়া হয়েছিলো। যা বুধবার বাস্তবায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে কলেজের হিসাব রক্ষক জয়নাল আবেদিন জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখার স্মারক নং ১৭.১৫৩.০২৯.০৭.০০.০১.২০১৯ তাং ১০-৬-২০১৯ মোতাবেক বলা হয়েছে পরবর্তীতে আউট সোর্সিং অফিস সহায়ক নেয়া হবে না। সে জন্য কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বাদ দিয়েছেন।
অফিস সহায়ক আনিছুর রহমান বলেন, ২৫ জন অফিস সহায়ক গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে নিয়োগ পেয়েছে। পরিপত্রে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাদ দিতে বলেননি। তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে পরবর্তী অর্থাৎ ২০১৯-২০অর্থ বছর আউট সোর্সিংয়ের নিয়োগে অফিস সহায়ক পদ থাকবে না অন্য পদ থাকবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ টেন্ডার না হওয়ার আগেই পূর্বে নিয়োগ প্রাপ্ত ২৫ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এমনকি তাদের বেতনও দেননি।
তবে অব্যাহতি দেয়ার এই প্রসেসটা মোটেও আইনসিদ্ধ নয় বলে দাবি করেছেন আউট সোর্সিং স্টাফ নিয়োগ ও তদারক কমিটির সদস্য ডা. আক্তারুজ্জামান।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. গিয়াস উদ্দিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

শেয়ার