যশোরের কৃষক শাহ আলমের খুনিরা ১৮ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গত ১৮ দিনেও যশোরের কৃষক শাহ আলমের খুনিদের আটক করতে পারেনি পুলিশ। এ হত্যাকান্ডের মূল আসামি আরমান সিকদার এলাকায় না থাকায় তাকে আটকে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে যশোর সদর উপজেলার কচুয়া-হামিদপুর গ্রামের মাঝে পাগলার বিলে খুন হন শাহ আলম।
জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের মধ্যপাড়ার আলহাজ মোতাসিন খলিফার ছেলে শাহ আলম। তিনি পেশায় কৃষি কাজ করতেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে শাহ আলমের সাথে একই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে জিল্লুর রহমান পাগলার বিলের মাঠে ধানে পানি দিতে যান। দুইজন একই সাথে পানি দেয়া শেষে রাত দেড়টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমেধ্য হামিদপুর গ্রামের ওই মাঠেই হামিদপুর গ্রামের আসাদের মাছের ঘেরের পাড়ের উপর দিয়ে শাহ আলম ও জিল্লু হেঁটে আসছিলেন। কিন্তু ঘেরের পাড়ে আসা মাত্র আসাদের ছেলে আরমানের নেতৃত্বে কয়েকজনে তাদের দুইজনকেই এলোপাতাড়ি মারপিট করে। শুধু তাই নয় শাহ আলমকে পায়ে রশি বেঁধে মাথা নিচের দিকে করে একটি মেহগনি গাছের সাথে ঝুঁলিয়ে রাখে। খবর পেয়ে বাড়ি থেকে লোকজন এসে আহ অবস্থায় জিল্লুকে নিয়ে যায়। পরদিন জিল্লুকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বর্তমানে বাড়িতে আছেন।
এদিকে ওইদিন ভোর রাতে বাড়ি থেকে শাহ আলমের লোকজন এসে তাকেও নিয়ে যায়। কিন্তু মৃত অবস্থায় তাকে নেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই গোলাম মর্ত্তুজা বাড়ি থেকে শাহ আলমের লাশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
এঘটনায় নিহতের পিতা আলহাজ মোতাসিন খলিফা বাদী হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর শুধুমাত্র আরমানের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার ১৮ দিন পার হলেও মূল আসামি আরমানকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তাছাড়া এ হত্যাকা-ের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা এমন কাউকে চিহ্নিত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে শাহ আলম হত্যাকা- নিয়ে পরিবারের লোকজনের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই পলাশ বিশ্বাস জানিয়েছেন আরমানসহ এ মামলার ঘটনার জড়িত আসামিদের সনাক্ত এবং আটকের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেছেন, শাহ আলম খুনের পর অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। যান্ত্রিক উপায়ে তাদের অবস্থান সনাক্ত এবং আটকের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার