আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়
যশোরের লালদীঘি পাড়ে নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শক-শ্রোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। একদিকে আনন্দ অন্য দিকে বিষাদের সুর আর চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মা দুর্গা তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীসহ কৈলাসে শ্বশুরবাড়ি ফিরে গেছেন। পিতৃগৃহে এই ধরণীতে তিনি আবার আসবেন এক বছর পর। মহালয়ায় দেবী দুর্গা পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন, মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দিন আবার মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে প্রস্থান করেন। ভক্তরা বিষাদ ভুলে হাসিমুখে দেবী মাকে বিদায় জানাতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অপরকে সিঁদুরে রাঙান, নাচ-গান করেন, যেন সারা বছর এমন আনন্দে কাটে।


যশোর শহরের লালদীঘিতে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িয়ে নিরঞ্জন অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য নিরঞ্জন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি অসিম কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ চন্দ্র দত্ত। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম খয়রাত হোসেন, যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তদ্রা ভট্টাচার্য্য, বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান কাজল, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এস এম মাহমুদুর হাসান বিপু, শহর আওয়ামী লীগের নেতা ইউসুফ শাহিদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্লাহ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির শিপলু, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী প্রমুখ। এখানে ৩৩ টি প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ ও পুলিশ সুপার মঈনুল হক লাল দীঘির প্রতিমা নিরঞ্জন পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক নূর-ই-আলম, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।

শেয়ার