রং-তুলির আঁচড়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাত!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন সংস্কারের কাজ না করে বিলের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র তৃতীয় শ্রেণির একটি আবাসিক (ভবন) কোয়ার্টার সংস্কারের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৫ লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দ দেয় খুলনা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই সংস্কার কাজের দায়িত্ব পান খুলনাস্থ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্বাদ এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে ঠিকাদারের লোকজন ভবনের ভিতরে ও বাইরের দেয়ালে কোন রকম রং তুলির আঁচড় দিয়ে পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো না করেই চলে যায়। পরে বিষয়টি ওই কোয়ার্টারের বাসিন্দা স্বাস্থ্য সহকারী ডা. মো. আসলাম হোসেন জমাদ্দার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে অবগত করেন। এসময় তারা বলেন, চিন্তার কোন কারণ নেই, নিয়মানুযায়ী ভবনের সকল কাজ সঠিকভাবে করে দেয়া হবে। কিন্তু মিথ্যা আশ্বাসে কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের বিভ্রান্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর যোগসাজসে সম্পূর্ণ বিলের টাকা তুলে নেয় ঠিকাদার। এ বিষয়ে ডা. আসলাম হোসেন বলেন, ঠিকাদার ভবনটির কাজ করে না দেয়ার কারণে পরিবার পরিজন বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচাতে আমার ব্যক্তিগত ভাবে ২০/২৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। এছাড়া থাকার কোন পরিবেশ ছিলনা। তবে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জামাল হোসেন শোভন বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দেয়া তো দূরের কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কোন যোগাযোগ করেননি। এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে প্রকৌশলী মো. এনামুল হক তালুকদার বলেন, হাসপাতালের ওই ভবনের কাজ সঠিক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঠিকাদারের কোন গফিলতি নেই এবং ভবনের বাসিন্দাদের অভিযোগ সঠিক নয়। এছাড়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. জি .কে .শামসুজ্জামান বলেন, অনেক ঠিকাদার কাজে নানা অনিয়ম করে থাকেন। এমনকি কাজ বুঝিয়ে না দেয়াসহ কাগজপত্রে স্বাক্ষর পর্যন্ত নেয় না। তিনি বিষয়টির খোঁজ খবর নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

শেয়ার