বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যায় ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৯

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আবরার হত্যাকা-ের পর সোমবার বুয়েটের শেরে বাংলা হলে অভিযান চালিয়ে এবং সিসিসিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের আটক করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

রোববার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই হলের শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন। পরে শিক্ষার্থীরা রাত ২টার দিকে হলের দ্বিতীয়তলার সিঁড়িতে তার লাশ পায়।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, আবরারের দুই কাঁধের নিচ থেকে হাতের কব্জি পর্যন্ত কালসিটে ছিল। একইভাবে কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছিল জখমের দাগ।
সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, “ভোঁতা কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। ফরেনসিকের ভাষায় বলে- ব্লান্ট ফোর্সেস ইনজুরি। বাংলা কথায়, ওকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।”
ওই তরুণের হাতে, পায়ে ও পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, “ইন্টার্নাল রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।”
ছাত্রলীগ কর্মীরা আবরারকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সহপাঠীদের বরাতে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
হলের যে দুটি কক্ষে আবরারকে পেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ, সেই ২০১১ নম্বর কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষ তারা সকালে ঘুরে দেখেন। সেসব কক্ষ থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও পরে সাংবাদিকদের জানান অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রত্যেকটা অপরাধীকে খুঁজে বের করব।”
একই সুরে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি যতটুকু বুঝি এখানে ভিন্ন মতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার নেই। এখানে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যারা দোষী সাবস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারসোনালি আমার কোনো ভিন্নমত নেই।”

পুলিশের তদন্তের মধ্যে সকালের দিকে প্রথম দফায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ। তারা দুজনেই বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র।
এরপর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও সাতজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান কৃষ্ণপদ রায়।
আটকদের মধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল জিয়ন, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল, যন্ত্রকৌশল বিভাগের তানভীরুল আবেদিন ইথান, রবিন, মুন্না, ও জেমি রয়েছেন।
অবসরপ্রাপ্ত ব্র্যাককর্মী বরকত উল্লাহ-রোকেয়া দম্পতির বড় ছেলে আবরার ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগে ভর্তি হন।

শেয়ার