কুমারী পূজায় ভক্তদের ভিড়, আজ মহানবমী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঢাক ঢোলের বাদ্যে মুখরিত চারপাশ। মন্দির মন্ডপ জুড়ে বইছে ধুপ ধূনোর ঘ্রাণ। ফুল চন্দন দিয়ে চলছে আরতি। এমন আনন্দঘন পরিবেশে রোববার মহাষ্টমীর দিন কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পূজায় মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় ছিল। এদিন সন্ধিপূজার পর যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে নবমী তিথীতে দুপুর ১২টায় কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। এদিকে আজ সোমবার দুর্গানবমী ও বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল যশোর শহরের বেজপাড়া নিবাসী ব্যাংকার সুবীর কুমার পাঠক ও পূজা বাগচীর সাড়ে চার বছরের শিশুকন্যা সম্পূর্ণা পাঠক প্রজ্ঞাকে শাস্ত্রমতে ‘কালিকা’ নামে এবার মাতৃদেবী তুলনা করে পূজা করা হয়। দেবী সাজে বালিকাকে পূজার মর্মবাণী হলো সমাজে নারীর মর্যাদা আর সম্মান প্রতিষ্ঠা করা। কুমারী পূজা থাকায় এদিন মন্দিরে নারীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ভক্তরা জানান, নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এ পূজার মর্মার্থ।
দুর্গোৎসবের ৪র্থ দিনে আজ মহা দুর্গানবমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। শাস্ত্র মতে এদিন ১০৮টি পদ্মফুলে পূজিত হবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে নবমী পূজা শুরু হবে সকাল সাড়ে ৬টায়।
বিকেলে মেঘলা আবহাওয়া আর মাঝে মাঝে হওয়া বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যশোর পৌর এলাকায় পূজা প্রাঙ্গণমুখী দর্শনার্থী ও ভক্তবৃন্দের উপচে পড়া ভীড় ছিল লক্ষ্যণীয়।
এদিকে মহাঅষ্টমীর শেষ মুহুর্ত আর মহা নবমীর শুরুর সন্ধিক্ষণে অসুর শক্তি বিনাশের লক্ষ্য নিয়ে রোববার বেলা ১১টা ১ মিনিট থেকে ১১টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত হয় সন্ধিপূজা। ধর্মীয় ক্রিয়াদী সম্পন্ন করে অসুর শক্তি বিনাশে ‘প্রতীকী বলি’ কার্যকর করা হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে এ বলি কার্যক্রমে প্রধান কাপালিকের ভূমিকা পালন করেন মিঠুন চক্রবর্তী। সহযোগী কাপালিকের ভূমিকায় ছিলেন নিরব বিশ্বাস ও হৃদয় চৌধুরী। পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেন গোপাল চন্দ্র ঘোষাল। সহায়ক পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন শক্তিপদ গাঙ্গুলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ।

শেয়ার