দু’যুগ আগের ওয়্যারিং ও ট্রান্সফর্মার কারণে ভোল্টেজ আপ-ডাউন, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালএস হাসমী সাজু
যশোর জেনারেল হাসপাতালের বিদ্যুৎ সাপ্লাইয়ের জন্য ২২ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল পাঁচশ কেভির ট্রান্সফর্মার। দীর্ঘ এ সময়ে হাসপাতালে যোগ হয়েছে প্রায় ১০০টি এসি, থ্রি ডি কালার আল্ট্রাসনো মেশিন, কালার ইসিজি, ল্যাপারোস্কপি মেশিনসহ একাধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি। কর্তৃপক্ষ বলছেন, বর্তমানে দরকার ১২শ’ কেভির ট্রান্সফর্মার। কিন্তু সেই পাঁচশ কেভির ট্রান্সফর্মার রয়েই গেছে। এতে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের ফলে অনেক এসি নষ্ট হয়ে গেছে। অকেজো হয়ে গেছে আল্ট্রাসনো, ইসিজি, এক্স-রে মেশিন। আবার দুই যুগের আগের পুরাতন ওয়্যারিং দিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার হওয়ায় কয়েকবার শর্ট সার্কিট থেকে হাসপাতালে আগুন ধরেছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র মতে, যশোর জেনারেল হাসপাতালটি ১৯৮৫ সালে ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়। এ সময় রোড লাইনের খাম্বা থেকে বিদ্যুত নিয়ে হাসপাতালের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম চালান হতো। পরে হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তর করলে হাসপাতাল চত্বরের পিছনে পাঁচশত কেভির ট্রান্সফর্মা স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডের লাইট, ফ্যান, অটোক্লেব মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের মেশিন, লাইট, এক্সরে বিভাগের মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম- ইসিজি মেশিন, এসি এবং স্টাফ কোয়ার্টারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসার মান বৃদ্ধির সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যুক্ত হয়েছে আধুনিক এনেসথেসিয়া মেশিন, করোনারী কেয়ার ইউনিটের অতিরিক্ত ৫০টি এসি, ইটিটি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, ইর্ন্টানি ও চিকিৎসকদের রুমে ২০ এসিসহ মোট একশটি এসি। চলতি বছরের মে মাসে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। এই মেশিন ও হাসপাতালের অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরিচালনার জন্য বর্তমানে দরকার ১২শ’ কেভির ট্রান্সফর্মা। কিন্তু রয়েছে পাঁচশ কেভির ট্রান্সফর্মার। পুরাতন ওয়্যারিং ও পাঁচশ কেভির ট্রান্সফর্মার কারণে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের ফলে একশটি এসির মধ্যে ২০টি, ছয়টি আল্ট্রাসনো মেশিনের মধ্যে চারটি, আটটি ইসিজি মেশিনের মধ্যে ছয়টি এবং সাতটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে চারটি নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ডিজিটালসহ অন্য দুইটি এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও এর মধ্যে বুধবার থেকে সার্কিট পুড়ে যাওয়ার কারণে (দুইটি মেরামত যোগ্য) মেশিনগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়াও অপারেশন থিয়েটারের মেশিন, লাইট, ওয়ার্ডের ফ্যানসহ আরও অনেক মেশিনই এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে ভোল্টেজের আপ-ডাউনের কারণে। আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার।
টেকনোলজিস্টরা বলছেন, প্রায় ২২ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি একশ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নতিকরণের সময়ে সীমিত ভোল্টের ট্রান্সফর্মার ও ইলেকট্রিক ওয়্যারিং দিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাপ নিতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত কোন না কোন মেশিন ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালের বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা কর্মচারী আরিফুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম জানান, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার উন্নতির সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে দশগুণ বেশি। কিন্তু বাড়েনি বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার ধারণ ক্ষমতা। তারা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১২ কেভির ট্রান্সফর্মার দরকার। তা না হলে অচিরে আরও মেশিনারিজ নষ্ট হবে।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত বিভাগকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।’
গণপূর্ত বিভাগ যশোরের কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম সমস্যাগুলোর কথা স্বীকার করে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।