ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরে ‘ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলা’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইরান সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ আছে সন্দেহভাজন এমন একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া এক প্রার্থীর প্রচারণা শিবির লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।
শুক্রবার তাদের ওই বিবৃতির পরপরই বেশ কয়েকটি সূত্র ট্রাম্পের পুননির্বাচনী প্রচার শিবিরের কর্মকর্তাদের অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করেই ইরানি হ্যাকাররা ওই হামলাটি চালিয়েছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়।
মাইক্রোসফট অবশ্য তাদের বিবৃতিতে কোনো প্রার্থীর নাম বলেনি।
‘ফসফরাস’ নামের ওই হ্যাকার গ্রুপ চলতি বছরের অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী ৩০ দিনে দুই হাজার ৭০০রও বেশি অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানতে চেষ্টা করে; পরে তারা সুনির্দিষ্ট ২৪১টি অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করে হামলা চালায়, বলছে এ টেক জায়ান্ট কোম্পানি।
“যেসব অ্যাকাউন্ট লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে তার মধ্যে মার্কিন এক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর প্রচারণা শিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাবেক-বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা, বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক এবং ইরানের বাইরে বাস করা খ্যাতনামা ইরানিদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে,” বিবৃতিতে বলেছে তারা।
মাইক্রোসফটের এ দাবি প্রসঙ্গে ইরান সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, হ্যাকাররা যে তাদের লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েছিল, তার কোনো লক্ষণ তারা দেখেননি।
হ্যাকারদের হামলায় মোট ৪টি অ্যাকাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যে অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সাবেক-বর্তমান কোনো কর্মকর্তা কিংবা ওই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর প্রচারণা শিবিরের যোগসাজশ নেই, বলেছে মাইক্রোসফট।
যুক্তরাষ্ট্রে সামনের বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে ডেমোক্রেট দলের ১৯ প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। রিপাবলিকান পার্টির ৩ নেতাও ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ডেমোক্রেট মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে থাকা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের দুর্নীতি তদন্ত করতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের চাপ নিয়েই মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম।
জুলাইয়ের এক ফোনালাপে ট্রাম্প ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে ওই তদন্তের জন্য চাপ দেয়ার কয়েকদিন আগেই দেশটিতে মার্কিন সামরিক সহায়তার অর্থ ছাড় আটকে দিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত স্বার্থে দরকষাকষির অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এমনটা করেছিলেন বলে অভিযোগ সমালোচকদের। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিদেশি একটি রাষ্ট্রকে আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছেন, এমন অভিযোগে প্রতিনিধি পরিষদের তিনটি কমিটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তও শুরু করেছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট এ তদন্তকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে অভিহিত করেছেন।

শেয়ার