সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ
চালু হওয়ার পরপরই যশোরে ১২৩ বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ

জাহিদ হাসান
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আধুনিকায়নে যশোরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চালু হয়েছিলো মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ। তদারকির অভাব, শিক্ষকদের অদক্ষতা ও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম অকেজো হয়ে পড়েছে। এ কারণে একদিকে জেলার মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা কার্যক্রম চলছে অনেকটা কাগজে-কলমে, অন্য দিকে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ হাজার ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭১২ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়ার সুবিধা দেয়া হয়। এর মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ ১শ’ ২৩টি বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া বিভিন্ন কারণে নষ্ট রয়েছে। অভয়নগর উপজেলাতে ৫০টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ১০টি অকেজো। কেশবপুর উপজেলার ৭০টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ১৬টি অকেজো। চৌগাছা উপজেলার ১৩৮টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ১১টি বিদ্যালয় অকেজো। ঝিকরগাছা উপজেলাতে ১১৩টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ১৪টি অকেজো। বাঘারপাড়া উপজেলার ৮২টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ২১টি অকেজো। মণিরামপুর উপজেলার ৪৩টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ২৭টি অকেজো। শার্শা উপজেলার ১২২টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ৯টি অকেজো। সদর উপজেলার ৯৪টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ১৫টি অকেজো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ার কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকের বাসায় থাকে। অনেক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই। ল্যাপটপ চার্জ দেয়ার জন্য বাসায় নিয়ে যান শিক্ষকরা। চার্জ না দিয়ে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দেয়ার আগেই ল্যাপটপ দেয়া হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই তাদেরও দেয়া হয়েছে। এখন এই ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর পেয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনও ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি প্রশিক্ষণ ও বিদ্যুতের অভাবে।
বাঘারপাড়া খাজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থাপনের আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ প্রায় ছয় মাস আগে এ বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর সরবরাহ করা হয়। বিদ্যালয়ের আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নাসরিন আক্তার কেয়া জানান, তিনি আইসিটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে। কিন্তু তাদের দেয়া হয়েছে ল্যাপটপ। তাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও ল্যাপটপ সচল না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কিছুই শেখাতে পারেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আহমেদ জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আইসিটি প্রশিক্ষণ পাওয়ার আগেই তাদের ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবং ল্যাপটপ নষ্ট থাকায় তারা এখনও ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি।
মণিরামপুর উপজেলার উত্তর জয়পুর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর বিতরণের কয়েক মাসের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানোর পরও এগুলো মেরামত বা নতুন ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দিচ্ছে না। যার কারণে শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলার চালু হওয়া ১২৩টি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে পাঠদান করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় শ্রেণি শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৭৭টি বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ এবং ৪৬টি বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর নষ্ট হয়ে আছে। বেশির ভাগ শিক্ষকরা অযতœ ও অবহেলা করার কারণে এগুলো নষ্ট করে ফেলে। যেগুলো নষ্ট হয়েছে এবং যে সকল বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ নেই এর একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।