বোধনে জেগেছেন দশভূজা, শারদীয় উৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কাঁশ, শিউলিসহ শরতের রকমারি ফুলের শোভায় ভরে উঠেছে আদিগন্ত বাঙলার প্রকৃতি। শরতের এই শুভ্রতার মাঝে মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে আজ থেকে সূচনা হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজার। আসছে মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের।
এদিকে পূজার নির্ঘন্ট অনুযায়ী গতকাল দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বোধনের মধ্য দিয়ে জেগে ওঠেন দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দশভূজা দেবী। ধূপের গন্ধ, পঞ্চপ্রদীপের আলো আর ঢাকের তালে তালে দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। বোধনের মধ্য দিয়ে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গা অতল ¯িœগ্ধ চোখের পলক মেলেন।
শাস্ত্র অনুযায়ী নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে মন্ডপ প্রাঙ্গণে বোধনের মঙ্গলঘট স্থাপন করা হয়।
পঞ্জিকা মতে, এবার দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে আসছেন ঘোটকে চড়ে। অর্থাৎ এবার দুর্গা দেবীর পৃথিবীলোকে আগমনের বাহন হলো ঘোড়া। আবার পূজা শেষে ফিরবেন ঘোড়ায় চেপে। শাস্ত্রজ্ঞরা মনে করেন, দেবীর ঘোড়ায় করে আগমন ও গমন সমাজ জীবনে অশুভ বার্তা; যার ফল ছত্রভঙ্গ। অর্থাৎ নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ-বন্যা, খরাসহ দেখা দিতে পারে মহামারী বা রাজনৈতিক অস্থিরতা।
আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী শ্রীশ্রী দুর্গা তার চার পুত্র-কন্যা নিয়ে হিমালয় থেকে পিতৃলোকে মর্ত্যে আগমন উপলক্ষে আরাধনায় মেতে উঠেছে বাংলার সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা। আনন্দময়ীর আগমনে আনন্দে তারা উদ্বেলিত। একই সাথে দেবী বন্দনায় উদ্বেলিত যশোরের সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীরা।
একদিকে যখন পুজোর প্রস্তুতি সম্পন্ন, তখনই অঝোর ধারায় বৃষ্টি বিপাকে ফেলেছে আয়োজকদের। বঙ্গোপাসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জের ধরে চলছে বৃষ্টিপাত। এমন ধারা চলতে থাকলে উৎসব আনন্দে বিঘœ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
শ্রীশ্রী হরিসভা মন্দির কমিটির সভাপতি তারাপদ দাস জানান, পুজোর সময় এমন অঝোর ধারায় বৃষ্টি হলে উৎসব আনন্দে কিছুটা হলেও বিঘœ হতে পারে।

শেয়ার