শরণখোলায় হাসপাতালে ডাক্তার সংকটকে পুঁজি করে স্বাস্থ্য কর্তার বাণিজ্য

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার, বিনা কারনে অতিরিক্ত টেস্ট.সার্টিফিকেট ও কাগজপত্রে সাক্ষর দেয়াসহ নানা অজুহাতে অর্থ হাতানোর অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট থাকায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জামাল হোসেন শোভন, যোগদানের পর থেকেই সাধারন মানুষকে জিম্মি করে গলা কাটা ব্যবসা শুরু করেছেন ।
অপরদিকে, একজন ডাক্তার ও ৩-৪ জন স্বাস্থ্য সহকারীদের পক্ষে উপজেলার প্রায় দু’লাখ মানুষের সেবা নিশ্চিত না হওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চলতি বছরের মে মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন এই কর্মকর্তা। তিনি উপকুলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেবার কথা না ভেবে নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নানা অজুহাতে অফিস ফাঁকি দিয়ে ৩৫০ টাকা ফি নিয়ে প্রাইভেট রোগী দেখাসহ আশপাশের ক্লিনিক গুলোর দিকে ঝুঁকে পড়েন। সাধারন মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অহেতুক একাধিক টেস্ট দিয়ে তাদের প্রায় ক্লান্ত করে তুলেছেন। টেস্টের ৬০ ভাগ টাকা নেন ডাক্তার, বাকি ৪০ ভাগ নেয় কিøনিক মালিক। এছাড়া সাধারন মানুষ তার নিকট কোন সার্টিফিকেট সত্যায়িত করতে গেলে টাকা দাবি করেন। তার চাহিদা মতো টাকা না পেলে নানা অজুহাত দেখান।
এ ব্যাপারে আলাপকালে উপজেলার খাদা গ্রামের দিনমজুর হেমায়েত বলেন, সম্প্রতি তিনি তার প্রতিবন্ধী ছেলে আল আমিনের জন্য কাগজপত্র ঠিক করাতে ওই ডাক্তারের কাছে গেলে ৬’শ টাকা দিতে হয়েছে তার। উপজেলার দক্ষিন তাফালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রাহিমা বেগম অভিযোগ করেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর একটি জন্মনিবন্ধনের কাগজে সাক্ষর করাতে স্বাস্থ্য কর্তার কাছে গেলে নগদ ৩০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার সাথে অশ্লীল ব্যবহার করেন ডাক্তার। ডাক্তারের এমন অসাধাচারণে তাৎক্ষনিক কেঁদে ফেলেন রাহিমা। পরে তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, এই স্যারের মতো টাকার ক্ষুধা বিগত দিনের কোন কর্মকর্তার ছিল না। তিনি বিভিন্ন অজুহাতে অফিস না করে হাসপাতালের চেয়ে বেশি সময় কাটান ক্লিনিকে এবং হাসপাতালের (ওটির) কিছু সামগ্রী ক্লিনিকে নেয়ার পায়তারা করছেন। তার কাছে চিকিৎসা নিতে গরীব মানুষ গেলেও টাকা লাগে। আর যে রোগী টাকা কম দেয়, তাকে বিনা কারনে কতগুলো টেস্ট দিয়ে হয়রানি করেন। এছাডা তার নামে ৩-৪ জন নার্স নরমাল ডেলীভারী করে রোগীদের নিকট থেকে ২৫০০-৩০০০ হাজার টাকা আদায় করছেন। এমনকি হাসপাতালের স্টাফরা পর্যন্ত রেহাই পান না ওই নার্সদের হাত থেকে। তবে ডাক্তার সংকট কেটে গেলে স্যারের এই একক অধিপাত্য থাকবে না বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মচারী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাঃ জামাল হোসেন শোভন বলেন, এসব অভিযোগের বিন্দু মাত্র সত্যতা নেই। ষড়যন্তকারীরা আমার বিরুদ্ধে মনগড়া তথ্য দিয়েছেন বলে দাীি করেন। এছাড়া রাহিমা বেগমের সাথে কোন খারাপ আচারণ করা হয়নি। কথা না বোঝার কারণে একটু দমক দেয়া হয়েছে মাত্র।

শেয়ার