নিটল মটরসের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা ।। হুমকির মুখে যশোরের এক ট্রাক মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিটল মটরসে জমা দেয়া টাকা ফেরৎ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ইমরান মিয়া ইমু। এছাড়া ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার স্বাক্ষীদের ও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনই অভিযোগে বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইমু। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ইমরান মিয়া ইমু বলেছেন, তিনি যশোর শহরের ঢাকা রোড বারান্দীপাড়া তালতলার নিটল মটরসের অফিস থেকে ৩৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা ৬০টি কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১৭৭৬) একটি ট্রাকের চ্যাসিস ক্রয় করেন। ওই সময় কোম্পানিকে তিনি ২ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট দেন। এছাড়া ওই অফিসে রেজিস্ট্রেশন বাবদ আরো ৮৯ হাজার ২৪৬ টাকা, ইন্সুরেন্স বাবদ ২৪ হাজার ৭০১ টাকা, পেপার প্রসেসিং বাবদ আড়াই হাজার টাকাসহ মোট ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৪৮ টাকা জমা দিয়ে চ্যাসিসটি গ্রহণ করেন। এরপর ট্রাকের বডি নির্মাণের জন্য আরো ব্যয় করেন সাড়ে ৬ লাখ টাকা। গাড়িটি রোডে চলাকালীন ২৫টি কিস্তিতে ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৪৮ টাকা কোম্পানির অনুকূলে জমা দেন। এতে ওই গাড়ির পিছনে তিনি সর্বমোট ব্যয় করেন ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৬ টাকা। কিন্তু রোডে চলাকালীন সময়ের মধ্যেই আসামিরা গাড়িটি আটক করে অন্যত্র লুকাইয়া রাখেন নিটল মটরস যশোর শহরের ঢাকা রোড বারান্দীপাড়া তালতলা অফিসের সিইও নুরুজ্জামান, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আসাদ ও এরিয়া ম্যানেজার রায়হান। পরবর্তীতে ইমু কোম্পানির ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারেন ওই তিনজনে গাড়িটি বাদীর স্বাক্ষর জাল করে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে গাড়ির মালিক ইমুর ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৬ টাকা ওই তিনজনে আত্মসাৎ করেছেন। এব্যাপারে গত ৯ সেপ্টেম্বর ইমু বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় আসামিরা স্বাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি ইমুর দেয়া টাকা গুলোও ফেরৎ দিচ্ছে না। ফলে টাকা গুলো ফেরৎ পাইতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
এদিকে নিটলের যশোর শাখার ব্যবস্থাপক আসাদুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনকারী ব্যক্তি নিটল গ্রুপ থেকে গাড়ি নিয়ে নিয়ম না মানায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়। স্বাক্ষর জাল বা টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই এক্ষেত্রে। তিনি যে যে টাকা দিয়েছেন তা কোম্পানি অনুকূলেই জমা পড়েছে, যা তাদের প্রতিষ্ঠান অবহিত।

শেয়ার