যশোরে পৃথক দুইটি অস্ত্র মামলায় ৩ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে পৃথক দুইটি অস্ত্র মামলায় এক জনকে যাবজ্জীবন ও অপর দুইজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরো দুইজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা হলো, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার ভাওয়াল মির্জাপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে ফজলুর রহমান, যশোরের শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া গ্রামের বনমান্দার পাড়ার মৃত আবেদ আলীর ছেলে আলী হোসেন ও ঝিকরগাছা উপজেলার কানাইরালি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সোহেল রানা।
মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারক মোঃ ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক ও স্পেশাল জজ (জেলা জজ) আদালতের বিচারক শেখ ফারুক হোসেন এ রায় দিয়েছেন।
সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন পিপি রফিকুল ইসলাম পিটু ও বিশেষ পিপি এসএম বদরুজ্জামান পলাশ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১৪ মে রাত ৯ টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার শ্রমিক ভবনের সামনে থামলে তিনজন যাত্রী বের হয়ে আসে। এ সময় ওই গাড়ি তল্লাশি করে ফজলুর রহমানের কাছ থেকে একটি বইয়ের মধ্যে বিশেষ কায়দায় রাখা একটি ইউএসএ’র তৈরি রিভলবার ও অপর দুইজনের কাছ থেকে ২২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে এসআই খবির হোসেন বাদী হয়ে অস্ত্র ও চোরচালান দমন আইনে কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুইটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১১ জুন তিনজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রোকিবুজ্জামান।
স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত ফজলুর রহমান রয়েছেন।
এছাড়া ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই শার্শা থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে উপজেলার বনমান্দার গ্রামের একটি বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে। রাতে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। এ সময় আটক আলী হোসেন ও সোহেল রানার কাছ থেকে একটি করে শার্টারগান ও এক রাউন্ড করে গুলি উদ্ধার করা হয়। অপর দুইজনের কাছ থেকে ডাকাতি করা দুইটি মোবাইল ফোন, একটি ছোরা এবং হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে এসআই মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে শার্শা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে এসআই আবু জাফর ওই বছরের ৩১ আগস্ট ৫ জনকে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি আলী হোসেন ও সোহেল রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুইজনই কারাগারে রয়েছে।

শেয়ার