ডাকাতির স্বর্ণ কেনাবেচার কথা স্বীকার করলেন দুই জুয়েলার্স মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে ডাকাতিকালে লুট হওয়া স্বর্ণ কেনাবেচার কথা স্বীকার করেছে রাজবাড়ি থেকে আটক হওয়া দুই স্বর্ণব্যবসায়ী। যশোর সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের কালিদাসের বাড়িতে ডাকাতিকালে লুট হওয়া স্বর্ণ তারা কেনাবেচা করেছেন। সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু জবানবন্দি শেষে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, রাজবাড়ি সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের ময়নাল শেখের ছেলে রাজিব আলী ও কোলারহাট গ্রামের মৃত ধীরেন্দ্র নাথ কর্মকারের ছেলে গৌর কর্মকার।
গৌর কর্মকার জানিয়েছেন, তিনি জুয়েলারি ব্যবসা করেন। বাজারের এক সবজি বিক্রেতা মাগুরার একজনকে সাথে নিয়ে গৌরের কাছে কিছু স্বর্ণ বিক্রি করতে যায়। এ সময় তার কাছ থেকে তিন ভরি ৬ আনা স্বর্ণ কেনা হয়। পরবর্তীতে সেই স্বর্ণ গলিয়ে এক ভরি সাত আনা হয়েছিল। এরপর সেই স্বর্ণ সে অপর জুয়েলারি ব্যবসায়ী রাজিব ও তপন কুমারের কাছে বিক্রি করে।
অপরদিকে রাজিব জানিয়েছেন, গৌর কর্মকার তার দোকানে মাঝে মধ্যে স্বর্ণ পালিশের কাজ করাতেন। গত ১০ সেপ্টেম্বরের দিকে গৌর এক ভরি সাত আনা স্বর্ণ নিয়ে তপনের কাছে বিক্রি করে দিতে বলেন। তপনের কাছে সেই স্বর্ণ বিক্রি করেছেন বলে জনিয়েছেন। গৌর কর্মকার এ স্বর্ণ কোথা থেকে পেয়েছেন তা তিনি জানেন না বলে জনিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের হরিদাস অধিকারীর বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণের গহনা লুট করে নিয়ে যায়। পরে তার ভাই কালীদাস অধিকারীর ঘরে ঢুকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। এ ব্যাপারে হরি দাস অধিকারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। তদন্তকালে পুলিশ ডাকাতি হওয়া স্বর্ণ ক্রয়ের অভিযোগে গৌর কর্মকার ও রজিবকে আটক করে। গতকাল তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তারা আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার