নড়াইলে ৫৭৭টি মন্ডপে তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র বাকি ৫দিন। শেষ মুহুর্তে এ জেলার ৫৭৭টি মন্ডপে তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। একটু একটু করে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলায় ব্যস্ত শিল্পীরা বলে জানালেন শিল্পী দিলীপ পাল ও সুবাস পাল।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আগামি ৪ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে ৫দিনব্যাপী দুর্গোৎসব। ৮ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন এবং পূজা চলাকালে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার লক্ষ্যে শনিবার বেলা ১২টায় শহরের টাউন কালিবাড়িতে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুন্ডুর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, নড়াইল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিদ্যুৎ বিহারী নাগ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি মলয় কুন্ড, অ্যাডভোকেট সঞ্জীব কুমার বসু।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অশোক কুন্ডু জানান, এ বছর জেলাশহরসহ ৩টি উপজেলায় মোট ৫৭৭টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে শিল্পীরা মন্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছেন। এখন চলছে তুলির শেষ আঁচড়। পাশাপাশি শহর ও উপজেলা সদর এবং বিভিন্ন হাটবাজার এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ।
জেলা প্রশাসন ও পুজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর সদর উপজেলায় ২৭২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।এরমধ্যে নড়াইল পৌরসভা এলাকায় দুর্গাপূজা হবে ৩৮টি মন্ডপে। এছাড়া লোহাগড়া উপজেলায় ১৫৫টি মন্ডপে এবং কালিয়া উপজেলায় ১৫০টি মন্ডপে দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।প্রতিটি মন্ডপের জন্য ৫শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে শারদীয় উৎসব পালনে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
পুলিশ সুপার মো: জসিম উদ্দিন জানান, পূজামন্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অন্যান্য বছরের মত মন্ডপগুলোতে পুলিশ-আনসার-ভিডিপির সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দেয়া ছাড়াও রয়েছে পুলিশের নিয়মিত টহল।
জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কমলাখী বিশ^াস বলেন, পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি পরিষদের পক্ষ থেকেও প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তি ও সৌহার্দ্যপুর্ণ পরিবেশে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার