যশোরে হিউম্যান হলার মালিক সমিতির অফিস মাদকের আখড়া !

 নেতৃত্বে শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাই ডিম রিপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে হিউম্যান হলার মালিক সমিতির অফিসটি যেন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ফিঙে লিটনের ভাই ডিম রিপনের নেতৃত্বে ওই অফিসে প্রতিনিয়ত মাদকের কারবার চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে শহরের মণিহার এলাকা থেকে জনি নামে এক মাদক কারবারীকে আটক করে থানা পুলিশ। ডিম রিপনের পোষ্য সন্ত্রাসী বরকতের নেতৃত্বে তাকে ছিনিয়ে নেয়া হলেও পরে আবার পুলিশ তাকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার বদর উদ্দিনের ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী আনিছুর রহমান ফিঙে লিটন। বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মের কারণে বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে। মণিহার এলাকার আবাসিক হোটেল কোকোর দ্বিতীয়তলায় রয়েছে তাদের তৈরি করা সংগঠন হিউম্যান হলার মালিক সমিতির অফিস। ওই অফিসটিকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত চলছে মাদকের কারবার। যদিও অফিসটির সভাপতির পদ ধরে রেখেছেন সাইদুর রহমান ডিম রিপন। আর ডিম রিপনের ছত্রছায়ায় রয়েছে তারই ভগ্নিপতি লুতফর রহমানের ছেলে মাসুদুর রহমান নান্নু, নান্নুর ভাই বাবু, একই এলাকার বরকত আলী, বুনো মিন্টু, বেড়ে মাসুদ ও শাহিন আহম্মেদ জনিসহ অন্তত ডজনখানেক সন্ত্রাসী। প্রতিনিয়ত ওই সন্ত্রাসী বাহিনী মণিহার এলাকায় বিভিন্ন গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি যেন তাদের নিত্যদিনের সাথী। এছাড়া উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা হিউম্যান হলার মালিক সমিতির অফিসে ইয়াবা ট্যাবলেট ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের রমরমা কারবার চলে আসছে। ওই অফিসের মধ্যে থেকে বিভিন্ন লোকের কাছে মাদক বিক্রি করা হয়। ক্রেতারা ওদের কাছ থেকে নিয়ে বের হলেই তাদের বাহিনীর সদস্যরা ক্রেতাকে আটক করে কাছে থাকা টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নেয়। ঠিক তেমনি ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে। শাহিন আহম্মেদ জনি একজন ক্রেতার কাছে ইয়াবা বিক্রি করেছিলেন। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ফকির ফেরদৌস সেই ক্রেতাকে আটক করেন। ওই সময় বারান্দীপাড়ার রাজাকার মাহফুজের ছেলে বরকতের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে জনিকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আবার জনিকে আটক করে। যদিও এঘটনার মামলায় পুলিশ জনিকে মাত্র ৫ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে। কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে সন্ত্রাসী ডিম রিপন, বরকত আলী, বুনো মিন্টু, বাবু নান্নুসহ আরো অনেকে। কিন্তু ওই ঘটনায় পুলিশের দেয়া মামলায় আরো দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো, যশোর সদর উপজেলার রামনগর সরদারপাড়ার বজলু সরদারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন সজল ও মণিরামপুর উপজেলার জামজামি গ্রামের আতাউর রহমান সরদারের ছেলে আবির হোসেন তুর্য্য।
উল্লেখ্য, বারান্দীপাড়ার মাজফুর রাজাকারের ছেলে বরকত আলী ডিম রিপনের ছত্রছায়ায় থেকে যুবলীগের নেতা পরিচয়ে মাদকের কারবার, সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করে আসছে।

শেয়ার