বিক্রির নিষেধাজ্ঞা মানছে না ব্যবসায়ীরা
পূজার বাজার ধরতে পটকা-বাজির বিপুল মজুদ

জাহিদ হাসান
দুর্গাপূজার আর বেশি দেরি নেই। কদিন বাদেই শারদীয় দুর্গোৎসবে মাতবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর এই উৎসবকে টার্গেট করে যশোরের বাজারগুলোয় ভারত থেকে আনা বাজি ও পটকা মজুদ করা হয়েছে। দুর্গাপূজায় প্রশাসন থেকে পটকা-বাজি ফোটানো ও বিক্রি করা নিষেধ থাকে। কিন্তু তারপরও ফি-বছরই একটি চক্র বাজি ও পটকা মজুদ করে বিক্রি করে। এবারও সেটির ব্যত্যয় হয়নি।
জানা গেছে, যশোর শহরের বড়বাজারের ফেন্সি মার্কেট, চুড়িপট্টি, রেলগেট, বেজপাড়া, আরবপুর পালবাড়িসহ বেশ কিছু এলাকায় পটকা ও বাজির ধুম বেচাকেনা চলছে। রকেট, আতশ, বুড়িমা, চরকা, মণিপুরি, কালিপটকা, তারাবাজি, বৌসাজ, লাদেন, বড় চকলেট, পম্পা, ছুঁচো, বোমাসহ নানা ধরনের পটকা-বাজির বিকিকিনি চলছে।
যশোরের বড় বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় প্রসাধনী সামগ্রীর সাথে নিষিদ্ধ বাজি আসছে। বেনাপোলের সাদিপুর, পুটখালী, অগ্রভুলট, গোগা ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথে এসব বাজি-পটকা আনা হচ্ছে। এমনকি সাতক্ষীরা থেকেও এগুলো যশোরের বাজারে আসছে। একাধিক সূত্র মতে, নারীসহ কিছু লোক এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রতিদিনই যশোর থেকে বেনাপোলে পণ্য আনতে যায় তারা। বেনাপোল থেকে ট্রেনে চেপে এরা সীমান্ত থেকে বিভিন্ন পণ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীর পাশাপাশি বাজি ও পটকা আনে। বাজি পটকা চোরাচালানের এই দৃশ্য ট্রেনে কর্তব্যরত পুলিশের নজরে পড়লেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযোগ আছে, পাসপোর্ট যাত্রী অনেক নারী-পুরুষও এই কারবারে জড়িত।
বুধবার বিকালে বড়বাজার এলাকায় নানা ধরনের পটকা বিভিন্ন বাজি কেনাবেচা করতে দেখা যায়। এসময় নতুনহাট এলাকা থেকে বাজি কিনতে আসা তরুণ বিশ্বাস নামে এক কিশোর জানায়, তারা পূজা উপলক্ষে আনন্দ করার জন্য চকলেট, রকেট, বুড়িমা, তারাবাজি বাজি কিনেছেন। তার মতো আরো অনেককে বাজি কিনতে দেখা যায়।
যশোর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুন্ড বলেন, প্রতিবারই জেলা প্রশাসন পটকা-বাজি বিক্রি ও না ফোটানোর জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু একদল অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে অবৈধ ভাবে এনে যশোরে বাজারে বিক্রি করে। এবারও সেটির ব্যত্যয় ঘটেনি। পরিষদের সব উপজেলা কমিটিকে স্ব স্ব এলাকায় কিশোর তরুণদেন বাজি পটকা না ফোটানোর জন্য বলতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিযে যোগাযোগ করা হলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি বলেন, বাজি বিক্রি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের অনেক আগেই নিষেধ করা হয়েছে। এরপরও যেসব ব্যবসায়ী নিষেধ অমান্য করে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূজার সময় বাজি-পটকা ফোটাতে নিষেধ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে পূজা উদযাপন করা যায় সে বিষয়ে নজর রাখবে জেলা প্রশাসন।