নড়াইলে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর ও শিশু কন্যাকে পুকুরে ফেলে হত্যা ॥ আটক ১

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের কালিয়ায় মাকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে মাহিমা (২) নামে এক শিশুকে পুকুরে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকালে উপজেলার হাড়িডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। কালিয়া থানার ওসি ইকরাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, উপজেলার হাড়িডাঙ্গা গ্রামের ছাদিয়ার থান্দারের ছেলে মাহামুদ থান্দার বিদেশে (সৌদি আরবে) কর্মরত থাকার সুযোগে মাহামুদের ভাই শামীম থান্দারসহ পরিবারের লোকজন পারিবারিক কলহের জের ধরে মাহামুদের স্ত্রী তাছলিমা বেগমকে (৩০) রোববার বেলা ১১ টার দিকে বেদম মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। তারা তাছলিমার একমাত্র শিশুকন্যা মাহিমাকেও মায়ের কোল থেকে কেড়ে রাখে। তাছলিমাকে মারপিট ও সন্তান কেড়ে রাখার ঘটনা কালিয়া থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনার তদন্তসহ মাহিমাকে উদ্ধার করতে শামীমদের বাড়িতে যায়। পুলিশ শিশু মাহিমার খোঁজ জানতে চাইলে বাড়ির লোকজন তার সঠিক সন্ধান না দেয়ায় পুলিশ ও স্থানীয়রা খোঁজখুজির পরক বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে শিশুটিকে থেকে উদ্ধার করে কালিয়া হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাছলিমার অভিযোগ তাকে তাড়িয়ে দিয়ে তার শিশুকন্যাকে শামীম ও তার পরিবারের লোকজন পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করেছে।
শিশু মাহিমা হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ হাড়িডাঙ্গা গ্রামের বোচা থান্দারের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে (৩৭) আটক করেছে।
কালিয়া থানার ওসি ইকরাম হোসেন আরো বলেন, নির্যাতিত গৃহবধু তাছলিমা বেগমর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তার শিশু কন্যাকে উদ্ধার করতে শামীমদের বাড়িতে গেলে বাড়ির লোকজন ওই শিশুর সন্ধান দিতে পারেনি। পুলিশ তাকে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তাছলিমার অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকান্ড বলেই ধারণা করছে পুলিশ বলে ওসি জানান।

শেয়ার