ভৈরবের শহর অংশের ‘খনন-প্রস্তুতি’ চলছে

All-focus

দেবু মল্লিক
নানা জটিলতায় আটকে থাকা ভৈরব নদের যশোর শহর অংশের খনন কাজ শুরুর তোড়জোড় চলছে। কয়েক দফা দরপত্রের পর ঠিকাদার মেলার মাস দুয়েক আগে দড়াটানা এলাকায় স্কেভেটর আনা হয়। গত দুই দিন ধরে সেই চারটি স্কেভেটর দিয়ে পানি নিস্কাশনের জন্য ট্যানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চলে আসবে আরো ১০টি স্কেভেটর। আর ‘বর্ষা মৌসুম’ শেষে মূল খনন শুরু হলে এক সাথে কাজ করবে অন্তত ৪০টি স্কেভেটর।


উচ্ছেদে পানি আইন প্রয়োগে নদী রক্ষা কমিশনে চিঠি
চলছে কচুরিপানা অপসারণ ও পানি নিস্কাশনের কাজ
মূল কাজের সময় ভৈরবে নামবে অন্তত ৪০ স্কেভেটর

এদিকে, সুষ্টুভাবে ভৈরব খননে দুই পাড়ের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে পানি আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আর সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠনের জন্য নদী রক্ষা কমিশনের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড। কমিটি গঠিত হলে ‘প্লাবনভূমির’ শর্ত মেনে শুরু হবে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ ও উচ্ছেদ অভিযান।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, নানা কারণে ভৈরবের যশোর শহর অংশের খনন কাজের জন্য ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ষষ্টবারের চেষ্টায় ঠিকাদার মিলেছে। ইতিমধ্যে খননের পরিবেশ তৈরির জন্য চারটি স্কেভেটর দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। আরো ১০ স্কেভেটর আনার জন্য আমরা ঠিকাদারকে বলেছি। আশা করছি সপ্তাহ খানের মধ্যে তা এসে যাবে। আর বর্ষা মৌসুম শেষে শুরু হবে মূল খনন কাজ। তখন এক সাথে অন্তত ৪০টি স্কেভেটর ব্যবহার হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর শহর অংশের চার কিলোমিটার খননে ব্যয় হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা। ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে।
জানা যায়, মূলত অবৈধ স্থাপনার কারণে মিলছিলো না যশোর শহর অংশের ঠিকাদার। গত ২৮ মার্চ দড়াটানা এলাকার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর ফের আটকে যায় উচ্ছেদ অভিযান। উচ্চ আদালতের মামলা আর তদবিরের কারণে এই অভিযান থমকে যায় বলে বলছে একাধিক সূত্র। উচ্ছেদ বন্ধ করতে দখলদাররা উচ্চ আদালতে সবমিলে ৬৪টি মামলা করে। তবে সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নতুন উদ্যোগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ফের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। যশোর শহর অংশের সেই সীমানার মধ্যে ৫০টির মতো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তবে সুষ্টুভাবে ভৈরব খননের জন্য আরো কিছু বহুতল ভবন উচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় পানি আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় যশোর জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত ১৮ আগস্ট যশোর জেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের জন্য নদী রক্ষা কমিশনে চিঠি দিয়েছে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলছেন, সুষ্টুভাবে ভৈরব খনন শেষে তার সুফল পেতে হলে বেশ কিছু বহুতল ভবন উচ্ছেদ করতে হবে। এজন্য পানি আইন প্রয়োগের সিন্ধান্ত হয়েছে। জেলা মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। সেই কমিটি গঠনের জন্য আমরা সপ্তাহ দুয়েক আগে নদী রক্ষা কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছি।