দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে চলছে মামলা
চৌগাছার পাশাপোল ইউপির ভবন নির্মাণ কাজ আটকে আছে আইনি জটিলতায়

ইয়াকুব আলী, চৌগাছা ॥ দীর্ঘ ৪২ বছরেও আইনি জটিলতার কারণে যশোরের চৌগাছার পাশাপোল ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। প্রস্তাবিত জমিতে টিনসেড দিয়ে কোনরকম চলছে পরিষদের কার্যক্রম। স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম চালাতে হিমিশিম খেতে হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা।
এ বাপারে ইউনিয়নবাসি আইনগত জটিলতা কাটিয়ে পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন ।
১৯৭৭ সালে পাশাপোল ইউনিয়নটি ঝিকরগাছা থানার অধীনে ছিল। ওই সময় ৩৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়নের তখন নাম ছিল ফুল পাশাপোল ইউনিয়ন।
এ সময় চৌগাছা থান গঠন হয়। তখন ওই ইউনিয়নকে ভেঙ্গে দুটি ইউনিয়ন করা হয়। তা হলো ১ নং ফুলসারা ও ২ নং পাশাপোল ইউনিয়ন। বর্তমানে পাশাপোল ইউনিয়ন ১৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। গ্রামগুলো হচ্ছে পাশাপোল, বানুরহুদা, পলুয়া, বাড়িয়ালী, বুড়িন্দীয়া, রষুনাথপুর, মৎস্যরাঙ্গা, দশপাখিয়া, হাউলী, দুড়িয়ালী, মালীগাতী, রানীয়ালী, সুরেশ্বাসকাটি, বড়গোবিন্দপুর, গোবিন্দপুর, কালিয়াকুন্ডি ও বিল এড়োল। ইউনিয়নের আয়োতন ২৫.৯৬ কি:মি:, লোকসংখ্যা-২২২৬৮ হাজার।
পাশাপোলা গ্রামের বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস, এ ইউনিয়নের আওয়ামলীগ নেতা আবু তালেব, ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলামসহ অনেকেই জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণ নিয়ে দেড় যুগ ধরে মামলা চলছে। যেকারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপোল ইউনিয়ন অনেক পুরাতন ইউনিয়ন হলেও এখানে কোন ইউনিয়নের ভবন তৈরি হয়নি। তৎকালীন সময় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা তাদের কাচারি ঘরে (বৈঠকখানায়) পরিষদের কার্যক্রম চালাতেন। তাঁরা আরো বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম খাইরুজ্জামান ঝিকরগাছা থানার অধীন থাকা অবস্থায় ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান নির্নয় করেন বাড়িয়ালী গ্রামকে। এই গ্রামে সরকারি ক্লিনিকের একটি কক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পাশাপোল ইউনিয়ন বিভক্ত ও চৌগাছা থানা গঠন হবার পর মধ্যবর্তী ওই স্থানের গুরুত্ব কমে যায়। পরবর্তীতে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের সহযোগিতায় দশপাখিয়া বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন ভবনের জন্য একটি স্থানের নাম প্রস্তাব করা হয়। একই সাথে সেখানে টিনসেড দিয়ে একটি কক্ষ তৈরি করে চালানো হয় কার্যক্রম। পরবর্তীতে পরিষদের ভবন নির্মাণের কথা বিবেচনা করে এলাকার আয়ুব হোসেন, আসাদুজ্জামান, কামরুজ্জামান, হেলালউদ্দীন, জালালউদ্দীনসহ ৭/৮ জন কৃতি সন্তান ৬৬ শতক জমি দান করেন।
সাবেক ইউপি সচিব রফিউদ্দন বলেন, যেখানে জমি দান করা হয়েছে, সেখানে পরিষদের ভবন নির্মাণ হলে ইউনিয়নবাসির সুবিধা হবে। কেননা পাশাপোল মৌজায় প্রস্তাবিত ওই জমির পাশে দশপাখিয়া বাজার বিদ্যমান। পাশেই রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা অফিস, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাইমারি স্কুল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়।
ইউপি চেয়ারম্যান অবাইদুল ইসলাম সবুজ বলেন, জমি দানের পর ওই জমিতে কবরস্থান আছে দাবি করে বাড়িয়ালী গ্রামের সহিউদ্দীন বাদী হয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা ঠুকে দেন। ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের বিষয়ে সাবেক ইউএনও ও জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রস্তাবিত স্থানকে সরজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। কিন্তু বাঁধ সাধে ওই মামলা। এরপর ২০১৩ সালে প্রস্তাবিত জমির পক্ষে রায় দেয়া হয়। ফলে ভবন নির্মাণে আর বাঁধা থাকে না।
তারপরও এই রায়ের বিপক্ষে বাদী আপিল করলে আদালত এবার বাদির অনুকুলে রায় প্রদান করেন। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের পক্ষে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ ও পূর্বের অনুকুলে রায় বহাল রাখতে আমরা হাইকোর্টে আপিল করি।
তিনি বলেন, আমরা আদালতের দিকে চেয়ে আছি। ডিজিটাল ও প্রযুক্তি নির্ভর এই যুগে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন না থাকলে কার্যক্রম চালানো যায় না। আমরা প্রস্তাবিত স্থানে টিনসেডের ভিতর কোন রকমভাবে পরিষদের কাজ চালাচ্ছি। বর্তমানে অফিসের সকল কার্যক্রম চালাতে নানা ধরণের সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, পাশাপোল ইউনিয়নে পরিষদের ভবনের প্রয়োজন। বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। আইনগত জটিলতার কারণে পরিষদের নতনি ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবো।