২৯ বছর পর অবৈধ হয়ে গেলো ট্রাকটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ২৯ বছর বৈধভাবে রাস্তায় চলাচল করেছে একটি ট্রাক। এজন্য সরকারি নিবন্ধনসহ যাবতীয় ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন ট্রাকটির মালিক। নিয়েছেন ফিটসেন সনদ, রোড পারমিট। কিন্তু সেই ট্রাকটিকেই এখন অবৈধ বলছে যশোর বিআরটিএ অফিস। এজন্য গাড়িটির ফিটনেস, রোড পারমিট আটকে দেওয়া হয়েছে।
এর প্রতিকার চেয়ে ট্রাকটির মালিক যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের দীন আলী মোড়লের ছেলে এমআর আব্দুস সাত্তার বিআরটিএসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ১৯৮৫ সালে অগ্রণী ব্যাংক থেকে তিনি ঋণ নিয়ে একটি ট্রাক ক্রয় করেন। যার চেসিস নং-ঔ৬খত৫-ঐগ২৪২২৩২ এবং ইঞ্জিন নং-ঔঈ২৪৭৭৬ । ঋণ পরিশোধ করার পর ১৯৮৬ সালে তার নিজের নামে গাড়িটি নিবন্ধন (ঢাকা মেট্রো ন-৭১৮৮) হয়। এই সময় থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গাড়িটির ফিটনেস সনদ, রোড পারমিটসহ আইন অনুযায়ী সব ধরনের ট্যাক্স পরিশোধ করে তিনি ট্রাকটি পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ওই বছর যশোর বিআরটিএ’র তৎকালীন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) জিয়াউর রহমান ও মোটরযান পরিদর্শক হুমায়ুন কবির ‘বিশেষ কারণে’ গাড়িটির ফিটনেস সনদ ও রোড পারমিট ইস্যু করা থেকে বিরত থাকেন। পরে অফিস থেকে তাকে জানানো হয় একই চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বারের একটি ট্রাক নিবন্ধন থাকায় তাকে ফিটনেস সনদ ও রোড পারমিট দেওয়া যাচ্ছে না।
জানা যায়, ২০০৯ সালে এসএম আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তি একই চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার ব্যবহার করে একটি ট্রাকের নিবন্ধন (ঢাকা ন-৭১৮৮) করেন। তবে ওই ব্যক্তির বাবার নাম দীন আলী মন্ডল উল্লেখ করা হলেও গ্রাম ও উপজেলা একই। আর ২০০৯ সালে গাড়িটির নিবন্ধন করা হলেও এখনো তার কোন ফিটনেস সনদ ও রোড পারমিট হয়নি।
এমআর আব্দুস সাত্তার দাবি করেন, আমার নাম বিকৃত করে একই চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার ব্যবহার করে নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। ওই নামের কেউ আমার গ্রামে নেই। বিষয়টি আমি কর্মকর্তাদের বার বার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা তা আমলে নেননি। এজন্য আমি বিআরটিএর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এব্যাপারে যশোর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরছালীন বলেন, সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি হয়। কমিটি যাচাই বাছাই করে দেখেছে এমআর আব্দুস সাত্তারের ট্রাকটির ইঞ্জিন পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া চেসিসও স্থানীয়ভাবে খোদাই করা হয়েছে। এজন্য তার ফিটনেস সনদ ও রোড পারমিট আটকে গেছে।

শেয়ার