মণিরামপুরের সেই কিশোরী ও তার সদ্যজাত সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরী ও তার ১০দিনের সদ্যজাত সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সোমবার রাতে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সৌমেন কিশোরীসহ অভিভাবকদের একটি মাইক্রোবাসে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে ধর্ষককে ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার কনা জানান, গত শনিবার কিশোরীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও শারীরিক ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে আরো তিন দিন কিশোরীকে হাসপাতালে রাখা হয়। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের দোহাই দিয়ে কিশোরী ও তার ১০দিনের পুত্র সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। পথে ও ডিএনএ পরীক্ষার সময় কিশোরী ও তার সন্তানের কোন সমস্যা হলে তার দায়ভার এসআইকে নিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, সবে কিশোরীর মেজর অপারেশন হয়েছে। শিশুর বয়সও ১০দিন। এর মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা করা উভয়ের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। এ জন্য মামলার আইওকে আরও কয়েক দিন পরে পরীক্ষা করানোর জন্য অনুরোধ করা হয় সংগঠনের পক্ষে। কিন্তু এসআই বিষয়টি কর্নপাত না করে আদালতের দোহাই দিয়ে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন। ফলে সংগঠনের পক্ষে যশোরে মনিটরিং করতে হচ্ছে। ঢাকায় নেওয়ার পরে কিশোরী ও তার সন্তানকে নেওয়া হবে মহাখালি সিআইডি ফরেনসিক বিভাগে। সেখানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্যরা থাকবেন। যশোরে কামরুন নাহার কনা ও জেলা শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব বিথীকা সরকার তাদের দেখভাল করেছেন।
উল্লেখ্য, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনের সহকারী কর্মকর্তা তার বাড়ির কাজের মেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এতে চলতি বছরের শুরুতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। কিশোরীর স্বজনরা আইনের আশ্রয় নেন। তখন পুলিশ কিবরিয়াকে আটক করেন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

শেয়ার