বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই আবর্জনার স্তুপ, ডেঙ্গু ঝুঁকি

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের বাঘারপাড়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের চারিপাশে ময়লা আবর্জনায় পরিপুর্ণ। দীর্ঘদিন ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করাই হাসপাতালেই তৈরি হচ্ছে মশা। ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ রুপ নিলেও কোনো মাথা ব্যাথা নেই কর্তৃপক্ষের। সরকার সারাদেশে ডেঙ্গুর জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান করলেও হাসপাতালে তার বাস্তব চিত্র দেখা যায়নি। নাম মাত্রই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করা হয়েছে। রোগী ও তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় এমনটা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাঘারপাড়ায় এ পর্যন্ত ১৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধিন রয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নতুন ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার ভেতর পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৭ জন ও শিশু ৪ জন। ডেঙ্গু রোগীর অধিকাংশ উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন থেকে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি ২২ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার ও মঙ্গলবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, মেডিসিন ওয়ার্ড গুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের সাথে অন্য রোগী রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রায় প্রত্যেক বেডে মশারির ব্যবস্থা ও রোগীর স্বজনদের বসার জন্য দুইটা করে টুলের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের রুমের পিছনে দীর্ঘদিন ময়লার স্তুপ পড়ে আছে। হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার অফিসের পিছনে বনজঙ্গল ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা পচে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। ড্রেনগুলোতে জমে আছে পানি। হাসপাতালের নতুন ভবনের ১০৪ নং মেডিকেল কনসালটেন্ট রুমের ডান পাশের ড্রেন দেখলে বোঝা যাবে কত দিন এখানে পরিষ্কার করা হয় না। রুমে ঢুকতে গেলে প্রথমে ড্রেন ও আশেপাশে নোংরা পরিবেশ চোখে পড়ে অথচ এমন চিত্র দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। অপরিচ্ছন্নতার কারণে হাসপাতালেই তৈরি হচ্ছে মশা। আর মশার কারণেই দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তার স্বজনরা।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বেড না পেয়ে পুরুষ ওয়ার্ডের কেবিনের সামনে বারান্দায় অবস্থান করছেন জামদিয়া এলাকার ইনছার আলী (৬০)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাকে হাসপাতাল থেকে বেড সিট দেয়নি। অপরিষ্কার একটা কম্বল দিয়েছে। যা দিয়ে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। দেয়নি মশারি। বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে মশারি আনতে হয়েছে। প্রচন্ড গরম এখানে। ফ্যানের কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি আরোও বলেন, কিছুদিন আগে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে গিছিলাম। সেখানে কিছুদিন ছিলাম। সেখানকার পরিবেশটা খুব সুন্দর। তাহলে আমাদের বাঘারপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের এমন অবস্থা কেনো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব আছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাধানগর এলাকার ইয়াসিন হোসেন (১৮) গত শনিবার হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের চারিপাশ অপরিষ্কার হয়ে আছে। কাউকে পরিষ্কার করতে দেখা যায়নি। এই কয় দিনের ভিতর মশক নিধনেরও কোনো কার্যক্রম আমার চোখে পড়েনি।
মহিরন এলাকার আজিজুর রহমান বেড না পেয়ে তার ছেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রানা (৭) কে নিয়ে হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের সামনের বারান্দায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। হাসপাতালের ভিতরে প্রচন্ড গরম। এখানে ফ্যান ও লাইটের ব্যবস্থা নেই। মশার প্রভাবও বেশি।
শিশু ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার সকালে ভর্তি আছেন জামালপুর এলাকার শিশু নাফিজ (৯) কে নিয়ে তার মার মা লাবনি খাতুন। তিনি বলেন, হাসপাতালে কোনো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নেই। ডেঙ্গু প্রভাব হাসপাতালে বেশি হলেও মশা মারার কোনো কার্যক্রম আমার চোখে পড়েনি।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আক্তারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকার কারণে এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। দুই একদিনের ভেতর পরিষ্কার করা হবে। পরিচ্ছন্ন কর্মি কম থাকায় এমনটা হচ্ছে।

শেয়ার