যশোরের ভায়না গ্রামে ব্যবসায়ী দুই ভাইয়ের বাড়িতে ডাকাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলার ভায়না গ্রামে ব্যবসায়ী দুই ভাইয়ের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। মুখোশপরে একদল ডাকাত প্রায় ৩ লাখ টাকা ও ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। এঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। যদিও পুলিশ এঘটনায় ডাকাতি নয়, দস্যুতা আইনে মামলা নিয়েছে।
ভায়না গ্রামের মৃত সনাতন অধিকারীর ছেলে কালীদাস অধিকারী জানিয়েছেন, তারা দুই ভাই কালীদাস ও হরিদাস অধিকারীর তারাগঞ্জ বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা করেন। সোমবার দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই বমি করেন। ওইদিন রাতে খাবার খেয়ে ভাই হরিদাস অধিকারী তারাগঞ্জ বাজারে কমিটির অন্যান্য সদস্যের সাথে পাহারা ডিউটি দিতে যান। আর এক ঘরে কালীদাস অধিকারী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এবং আরেকটি ঘরে ছোট ভাই হরিদাসের স্ত্রী-সন্তান ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙ্গে মুখোশধারী একদল ডাকাত ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। প্রথমে হরিদাসের স্ত্রী কনিকা রানী অধিকারীর গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে তার ঘরের আলমারি ভেঙ্গে ১ লাখ ১০ হাজার নগদ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নেয়।
এরপর শাবল দিয়ে পাশের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে কালীদাস অধিকারীকে মারপিট করে গামছা দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এসময় তার ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে চলে যায়। এছাড়াও দুই ঘর থেকে কাপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর কালীদাস চিৎকার করলে হারিদাসসহ বাজারের পাহারাদাররা ছুটে আসে।
হারিদাসের স্ত্রী কনিকা রানী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মুখোশধারী তিন ডাকাত তার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজনের বাম হাত নেই।
পরদিন মঙ্গলবার ভোরে একই গ্রামের শেখপাড়ার মৃত সিরাজ শেখের ছেলে রবির লিচু বাগানে মহিলাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রি একটি ভ্যানিটি ভ্যাগ, একটি সোনার দোকানের ছোট ব্যাগ, একটি ম্যাক্সি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানান। পরে পুলিশ ওই মালামালগুলো জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালগুলো হরিদাসের স্ত্রী কনিকা রানীর বলে জানা গেছে।
ডাকাতির খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে, এক ডাকাতের বাম হাত কাটা ছিল এমন তথ্য পেয়ে তারাগঞ্জ বাজারের পাশ^বর্তী বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট গ্রামের ইজিবাইক চালক সুমন ও আব্দুল কাদেরের ছেলে হেলালকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
কোতোয়ালি থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার জানিয়েছেন, ভায়না গ্রামের একটি বাড়িতে দস্যুতার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

SHARE