ছেলে ছাত্রদলের রাজনীতি করায় এক যুগেরও বেশি সময় যোগাযোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ায় যশোর জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলামের সাথে ছেলে রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের কোন যোগাযোগ নেই। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শ্রাবণের সাথে তাদের যোগাযোগ নেই দাবি করে রফিকুল ইসলাম গতকাল প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই সময়ে তার দুই ভাই ও একমাত্র বোনেরও বিয়ের অনুষ্ঠানেও আসেননি। কিন্তু শ্রাবণের বিষয়টি সামনে এনে একটি পক্ষ আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত এই পরিবারটি নিয়ে মিথ্যাচার করছে।
লিখিত বক্তব্যে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি জীবনে আমি পাঁচ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। আমার বড় ছেলে কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্তা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ে নৌকা প্রতীকে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দ্বিতীয় ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। তৃতীয় ছেলে কাজী মাযাহারুল ইসলাম সোনা জেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক। চতুর্থ ছেলে কাজী আযহারুল ইসলাম মানিক কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। একটি মাত্র মেয়ে বিবাহিতা ও গৃহিনী। আর কনিষ্টপুত্র কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৩ সালে ভর্তি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছাত্রদলের সংগঠনে জড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে বাড়ির সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে আসে। বারবার আমি এবং আমার পরিবারের সকলে অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করাতে ব্যর্থ হয়েছি। এজন্য আমাদের সাথে তার যোগাযোগ নেই। এই সময়ে আমার দুইটি ছেলে ও একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানেও সে আসেনি।
কিন্তু শ্রাবণের সাথে রক্তের সম্পর্কের কারণে একটি মহল আমার ও আমার পরিবারের সাথে বিএনপির রাজনীতির যোগাযোগ আছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বলছে, আমার পরিবার বিএনপি করে। তারা এই অভিযোগ ঢাকা পর্যন্ত করে এসেছে। সংবাদ সম্মেলনে কাজী রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমি বাঙালি জাতীয়বাদে বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমার আদর্শিক নেতা মেনে ছাত্রলীগ ও স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে একনিষ্ঠ রাজনীতি করছি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ৭৫ পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে আমাকে গ্রেফতার করে ১১ মাস ক্যান্টনমেন্টে আটকে রেখে সীমাহীন নির্যাতন করেও আমার নীতি আদর্শ থেকে সরাতে পারেনি। ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আমি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৮৬ সালে আজকের প্রধানমন্ত্রী আমাকে কেশবপুর এলাকায় জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেন। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অর্থবহ, গ্রহণযোগ্য করার মানসে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি। এর আগে আমি ঢাকায় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। নির্বাচনে বহুবিধ প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করেছি। সেই কারণে সুবিধাবাদী চক্রের কাছে আমি চক্ষুশূল হয়ে উঠেছি। যারা আমাকে ও আমার পরিবারকে বিতর্কিত করতে নানাভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়াচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্তা, কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না, কাজী আযহারুল ইসলাম মানিক ও কেশবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার মোহাম্মদ আলী।

SHARE