১৬ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন কারাগারে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকের) দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার সাতক্ষীরার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান শুনানী শেষে এই নির্দেশ দেন। আসামি তৌহিদুর রহমান হাইকোর্টের আদেশে ৬ সপ্তাহের জন্য জামিনে ছিলেন। সোমবার ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আদালতে হাজির হয়ে ফের জামিনের আবেদন জানান। বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলার অপর আসামি হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেনকে গত ২৭ আগস্ট আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকেও হাজতে পাঠান। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। এছাড়া মামলার আরেক পলাতক আসামি স্টোর কিপার ফজলুল হককে সম্প্রতি হাইকোর্ট এক আদেশে দেশ ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, কারাগারে পাঠানো সাবেক সিভিল সার্জনের পক্ষে আদালতে জামিন শুনানীতে অংশ নেন এড. মিজানুর রহমান পিন্টু। তাকে সহায়তা করেন এড. শাহ আলম ও এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানীতে অংশ নেন দুদকের আইজনীবি এড. আসাদুজ্জামান দিলু। তাকে সহায়তা করেন এড. ফাহিমুল হক কিসলু, এড. বদিউজ্জামান, এড. শাহিদুজ্জামান, এড. শামিম আহমেদ, এড. সালাউদ্দিন লোদি প্রমুখ।
এদিকে এ মামলার অন্যতম পলাতক আসামি সিভিল সার্জন অফিসের স্টোর কিপার ফজলুল হককের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মিস নং ৩৪১১৭/১৮ তারিখ ১১.০৭.১৯ এর আদেশে পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা এবং ওসি শ্যামনগর থানাকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, ফজলুল হককে ২১.০৭.১৯ তারিখের মধ্যে আটক করে নিন্ম আদালতে সোপর্দ করতে এবং সে যাতে আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে দেশ ত্যাগ না করতে পারে সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজ ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৭ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৪৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা আরও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি শ্যামনগর উপজেলার ইছাপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের পুত্র।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপ সহকারি পরিচালক জালাল উদ্দীন বাদি হয়ে ৯ জনকে আসামি করে স্পেশাল ২৫/১৯ নম্বর ওই মামলাটি দায়ের করেন।

SHARE