শরণখোলার নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥ বাগেরহাটের শরণখোলার ধাণসাগর নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নদীতে টহল দেয়ার সময় বিভিন্ন অজুহাতে নগদ টাকা, ডিজেল ও ইলিশ মাছ পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে তারা।
ভুক্তভোগী জেলে ও মৎস্য ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ, ধানসাগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল বলেশ্বর নদীর বগী, নলী, সুপতির মোহনা, চরদুয়ানী, কচিখালীর মোহনা এবং সুন্দরবনের ভোলা, শেলা, দুধমুখী নদীসহ কটকা এলাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের জন্য ঘুরে বেড়ায়। এমনকি বাগেরহাট জেলার এই নৌ-পুলিশ পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার নৌ সীমানার মধ্যে গিয়েও চাঁদা আদায় করে। পুলিশের এই চাঁদাবাজিতে জেলে ও মৎস্যজীবিরা এখন অতিষ্ট হয়ে পডেছেন।
পিরোজপুরের পাড়েরহাট এলাকার মৎস্য আড়ৎদার আঃ হালিম জানান, গত ২৮ আগস্ট ওই নৌ-পুলিশ বলেশ্বর নদীর নলী এলাকা থেকে তার দাদন দেয়া চারটি মাছ ধরা ট্রলার আটকে ১৫’শ টাকা, চারটি ইলিশ মাছ ও এক টিন ডিজেল নিয়ে যায়। মঠবাড়িয়া উপজেলার জলাধার এলাকার মৎস্য আড়ৎদার বাদল গাজী জানান, গত ১ ও ২ সেপ্টেম্বর বলেশ্বর নদীর পিরোজপুর জেলার নৌ সীমানার শাপলেজা ও ভাইজোড়া এলাকায় প্রবেশ করে ১০/১২টি মাছ ধরা ট্রলার জিম্মি করে চাঁদা আদায় করে। এসময় যেসব ট্রলারে টাকা ছিল না, তাদের প্রতিটি ট্রলার থেকে একজন করে জেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে টাকা এনে দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
শরণখোলা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফরাজী জানান, গত ২৯ আগস্ট শরণখোলার নৌ-পুলিশ তার একটি ফিসিং ট্রলার আটকে এক হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে। এছাড়া গত ২৭ আগস্ট উপজেলার রাজাপুর এলাকার ইব্রাহীম খাঁনের এফবি মায়ের দোয়া ফিসিং ট্রলারটি বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে বলেশ্বর নদীতে আটক করে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু জেলেদের কাছে টাকা না থাকায় পুলিশ মাছ ধারার পারমিট ও বিএলসির কাগজ রেখে ট্রলার ছেড়ে দেয়। পরে তাদের টাকা দিয়ে ওই কাগজ ছাড়িয়ে আনতে এক সপ্তাহ বিলম্ব হওয়ায় বন বিভাগের কাছে তাদের জরিমানা গুনতে হয়েছে।
রায়েন্দা বাজারের মৎস্য ব্যাবসায়ী বিলাস রায় কালু জানান, সাগর থেকে ফিরে আসার সময় বলেশ্বর নদীর চরদুয়ানী, জ্ঞানপাড়া, বগী ও হেড়মা পর্যন্ত ঘাটে ঘাটে পুলিশকে চাাঁদা দিতে হয়।
বাগেরহাট জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির শরণখোলা শাখার সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, বন বিভাগরে কাছ থেকে পারমিট নিয়ে বৈধভাবে জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। জীবন-জীবিকার তাগিদে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে যুদ্ধ করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা মাছ ধরে। তাদের কাছ থেকে পুৃলিশের চাঁদা আদায় মানবতা লঙ্ঘনের সামিল। তিনি পুলিশের এ চাাঁদাবাজি ও হয়রানী বন্ধের দাবি জানান।
জানতে চাইলে বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের বগী স্টেশন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, জেলেরা পারমিট নেয়ার সময় নদীতে নৌ-পুলিশের চাঁদা আদায়ের কথা প্রায়ই বলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই।
এ ব্যাপারে শরণখোলার ধানসাগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বদরুজ্জামান চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা সম্প্রতি কোন টহলে যায়নি।
নৌ-পুলিশের খুলনা অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, নৌ-পুলিশ অথবা তাদের পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা জেলেদের হয়রানি করার সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

SHARE