দুর্নীতির কারণে ভোমরা বন্দর ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ সরকারের সাথে চুক্তিভিত্তিক সমুদয় বিল পরিশোধের পরও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বন্দর ব্যবসায়ীরা। একই সাথে অতিরিক্ত টাকায় শ্রমবল কিনে ভারতীয় আমদানি পণ্য খালাস করতে হচ্ছে । এরফলে ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন।
সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে একথা বলেন ভোমরা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তারা। তারা বলেন রাত্রি যাপন না করলেও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নাইট চার্জ আদায় করা হচ্ছে। তারা বলেন পণ্য খালাস বাবদ প্রতি টন ৫৪.৬০ টাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিলে আগেভাগে জমা দিতে হয়। এই টাকা দেয়ার পরও চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সরবরাহ করছে না। ফলে পচনশীলতা থেকে রক্ষা এবং সময় ক্ষেপনসহ অন্যান্য বাড়তি ব্যয় রোধে গাড়ি প্রতি আরও ২০০০ টাকা দিয়ে ভারতীয় পণ্য খালাস করতে হয়। এভাবে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে শ্রমবল ক্রয় এবং নাইট চার্জ বাবদ দৈনিক গড়ে ৪০০ গাড়িতে ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এটি একটি বড় বোঝা উল্লেখ করে তারা বলেন, এই বাড়তি টাকা ব্যয়ে সম্মত না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন। যারফলে বন্দরে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয়ে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে বলেন, এই সুযোগে এক শ্রেনীর কর্মকর্তা দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি নাইট চার্জের টাকাও তারা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। সরকারি খাত দেখিয়ে এসব টাকা আদায় করা হলেও তা সরকারের ঘরে পৌঁছাচ্ছে না। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত ভারতীয় গাড়ি প্রবেশ করতে পারে। এই সময়ের মধ্যে গাড়িগুলো ভারতে ফিরে গেলেও তাদের কাছ থেকে জোর করে নাইট চার্জ আদায় করা হচ্ছে। ভোমরা বন্দরকে দ্বৈতনীতির ফাঁদে ফেলে প্রকৃতপক্ষে বন্দরটিকে অকেজো করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। দেশের অন্য কোনো বন্দরে এমন বৈষম্য নেই বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় এসব বিষয় নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। রোববার তারা এ বিষয়ে একটি মানববন্ধন করেছেন। এরআগে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেবেন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এইচএম আরাফাত। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান আশু, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু ,সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম, রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, অহিদুল ইসলাম, গোলাম ফারুক বাবু, মাকসুদ খান, আমির হামযা, দীপংকর ঘোষ, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

SHARE