কারাগার থেকে বেরিয়েই ফের মাদকের কারবারে যশোরের সেই শিলি বেগম

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কারাগার থেকে বেরিয়েই ফের মাদকের কারবার শুরু করেছে যশোরের আলোচিত মাদক বিক্রেতা শিলি বেগম। ভারত ও মায়ানমার থেকে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ঢুকছে তার ডেরায়। স্থানীয়দের ভাষ্য প্রতি মাসে অন্তত দশ লক্ষাধিক টাকার মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক তার পাশে থাকে মেয়ে। আর সহযোগিতায় রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য। যাদের তিনি নিয়মিত টাকা দিয়ে ‘খুশি’ করেন।
সপ্তাহ খানেক আগে জেল থেকে বেরিয়েছেন যশোরের মাদকপট্টি খ্যাত চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার সোহরাব হোসেন ছোট’র স্ত্রী শিলি বেগম। গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যার পরে বাড়ি থেকে আটক হন শিলি বেগম। অভিযোগ রয়েছে ওই সময় তার কাছে বিপুল পরিমাণের ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা ছিল। যদিও ঘটনার দিন তাকে আটকের ব্যাপারে তেমন কোন তথ্য সাংবাদিকদের দেয়া হয়নি। পরদিন ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং দেড় গ্রাম গাঁজাসহ আটক দেখিয়ে মামলা দেয়া হয়েছিল। ওই মামলায় মাত্র সপ্তাহ খানেক কারাভোগ করেন শিলি বেগম। আর কারাভোগকালীন শিলি বেগম পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে গেলে তার মেয়ে ছন্দা খাতুন মাদকের ওই ব্যবসা পরিচালনা করতেন। মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় জেল থেকে বেরিয়ে আবারো শুরু করেছে পূর্বের ন্যায় মাদকের ব্যবসা। প্রতি মাসে অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকার মাদকের কারবার করেন শিলি বেগম। মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যশোরে আনেন শিলি বেগম। পাশাপাশি তার স্বামী সোহরাব হোসেন ছোট বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আনেন ফেনসিডিল ও গাঁজা। এরপর নিজ এলাকা যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার কয়লাপট্টিতে বিক্রি করেন। আর সেই ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা এলাকার অনেককে দিয়ে শিলি বেগম বিক্রি করে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ আগস্ট সদর ফাঁড়ি পুলিশের এটিএসআই ভোলা নাথের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার নিজে বাড়ি থেকে ১৫ পিস ইয়াবা এবং ২০ গ্রাম গাঁজাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি শিলি বেগমকে আটক করা হয়। ওই মামলায় মাত্র সপ্তাহ খানেক জেল খাটার পরই আবার জামিনে মুক্তি পান শিলি বেগম। এরপর আবারো পূর্বের ন্যায় শুরু করে দেন মাদকের কারবার। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে আর রাত ১০ পর্যন্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বিক্রি করেন বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।
জানতে চাইলে যশোরের চাঁচড়া ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর হুমায়ন আহম্মেদ বলেন, তার বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার