শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি চরমে উঠেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে নীরব চাঁদাবাজির ভয়ঙ্কর আখড়া। ইতোমধ্যে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সেবার এই অফিসটি দুর্নীতির দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রাহক হয়রানি, অনিয়মিত সেবা, অবৈধ জরিমানা আদায়, ভুয়া বিল তৈরি, রাতের আধারে ট্রান্সফরমার সরিয়ে কৃত্রিম জনভোগান্তি সৃষ্টি করে গ্রাহকদের নিকট থেকে অর্থ আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় জমলেও যেন দেখার কেউ নেই। অফিস নিয়মের বাইরে কৃত্রিম দালাল সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন চলে পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা সমস্যার সমাধান। উপার্জন হয় হাজার হাজার টাকা। জেলা পল্লীবিদ্যুত সমিতি কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্নাদিয়ে নিরুপায় হয়ে দুদক অফিস পর্যন্ত পৌঁছেছে অসহায় গ্রাহকদের নানা অভিযোগ।
শৈলকুপা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগের যেন অন্ত নেই। হাকিমপুর ইউনিয়নের বাদাপাড়া গ্রামের আকবার আলীর অভিযোগ তিনি নিয়মিত বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেন এবং তার ম্যাসেজ রেকর্ড আছে। গত জুলাই মাসে অফিসের লাইনম্যান বিকাশে বিল পরিশোধের সিস্টেম নেই ও মোবাইলের এসব ম্যাসেজ ভুয়া দাবি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কাঁচেরকোল ইউনিয়নের উত্তর কচুয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মাসুদ রানা জানান, তার কাছ থেকেও ইজিবাইক চার্জ দেয়ায় মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া নিয়েছেন। এছাড়াও কীর্ত্তিনগর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ জানান, তার বাড়িতে পানির মটর গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করা হয়। দুই মাস আগে গরুর গোয়ালে মটরলাইনের চিকন পাইপ দিয়ে পানি দেয়া অবস্থায় অফিসের লোক তাকে সাইডলাইনের অজুহাত দেখিয়ে ৭’শ থেকে ৮’শ টাকার স্থলে জরিমানাসহ ৩৪’শ টাকা বিল করে। অফিসে বহুবার ঘুরে প্রতিকার না পেয়ে দালালের মাধ্যমে কিছু ঘুষ দিয়ে সে যাত্রা রক্ষা পান বলে অভিযোগ করেন।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের ভান্ডারী পাড়া গ্রামের আব্দুল মতিন আবাসিক মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিলেন। তিনি নিজেস্ব ইজিবাইক চার্জের আগ্রহ প্রকাশ করায় কর্তৃপক্ষ ওই মিটারটি বাণিজ্যিক মিটারে রুপান্তরিত করে দেয়। সেই থেকে প্রায় তিন বছর নিয়মিত ইজিবাইক চার্জ ও বাণিজ্যিক হিসাবে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছিলেন। গত ৩১ জুলাই রাতের আধারে হঠাৎ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বেশ কিছু লোকজন সন্ত্রাসীদের মতো মতিনের বাড়িতে থাকা মহিলাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারটি খুলে নিয়ে আসে বলে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় কর্মকর্তাকে খুশি না করায় ১ আগস্ট থেকে মৌখিক ভাবে মতিনের নিকট ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা করে দাবি করে আসছিল শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এনিয়ে স্থানীয় সুধিজন জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী মতিন দীর্ঘদিন অফিসে ধর্না দিলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। গত ২৮ আগস্ট ঝিনাইদহ অফিসে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করায় শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম কামরুজ্জামান বেপরোয়া প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর হতদরিদ্র ইজিবাইক চালক আঃ মতিনকে ক্ষতিগ্রস্থ বিল ও জরিমানা হিসেবে ৬৯ হাজার ৯শ ৪৪টাকা আদায়ের লক্ষে নোটিশ দেন।
আব্দুল মতিন আরো জানান, আগস্ট মাসে মাঠে কাজ করার জন্য ইজিবাইক চালানো বন্ধ ছিল। ওই মাসে ২৫’শ টাকার স্থলে আগস্ট মাসে তার মিটারে ১১’শ টাকা বিল এসেছে। বিদ্যুৎ সমিতির অযৌক্তিক ধারণা বিদ্যুৎ চুরি করা হয়েছে, তাই বিল কম এসেছে। সে কারনে প্রথমে মৌখিক ভাবে ৯৩ হাজার টাকা দাবি করে এবং এ বিষয়ে কোনো চেয়ারম্যান মেম্বার কে না জানিয়ে একা অফিসে যেতে বলা হয়। জরিমানার টাকার কথা জনপ্রতিনিধির জানানোর কারনে ও ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে লিখিত অভিযাগ দেয়ার পরে অফিস থেকে জরিমানা হিসেবে ৬৯ হাজার ৯শ ৪৪ টাকার নোটিশ দিয়েছেন। আব্দুল মতিনের দাবি ইজিবাইক চার্জের জন্যই তার মিটার আবাসিক থেকে বাণিজ্যিক করা হয়েছে। তবুও ইজিবাইক চার্জের অজুহাত দেখিয়ে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
শৈলকুপা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম কামরুজ্জামান জানান, আঃ মতিনের মিটার থেকে বাইপাস করে ইজিবাইক চার্জ দেয়া হতো বলে সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ জরিমানা করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক মিটারে কেনো ইজিবাইক চার্জ দিতে পারবেনা তার সদুত্তোর দিতে পারেননি।

SHARE