যশোরের জেলরোডে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য, মানুষ জিম্মি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকায় উঠতি সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নীরবতায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উঠতি সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন যাবত জেলরোড এলাকায় নানা অপরাধের সাথে যুক্ত রয়েছে। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা অন্তত ২৫ জন। কিশোর ও যুবক বয়সীদের নিয়ে গঠিত এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি এলাকায় ছিনতাই. চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বেশিরভাগের বাড়ি জেলরোডস্থ ধানপট্টি, বেলতলা ও ডিআইজি রোডে। এই সন্ত্রাসীদের লালনকর্তা সাবেক একজন ছাত্র নেতা। তিনি একজন সংসদ সদস্যের অনুসারী। তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উঠতি সন্ত্রাসীরা এলাকায় বীরদর্পে ঘটিয়ে চলেছে একের পর এক অপরাধ। অবৈধ অস্ত্রধারী এসব সন্ত্রাসী ঈদসহ বিভিন্ন দিবসসহ কারণে-অকারণে নেমে পড়ে চাঁদাবাজিতে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চাঁদা না দিয়ে রেহাই নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে চাঁদার অংকটাও বেধে দেয়া হয়। উনিশ-বিশ হলেই বিপত্তি। ফলে অসহায় মানুষগুলো সন্ত্রাসীদের দাবি মেটাতে বাধ্য হন।
একাধিক সূত্র জানায়, জেলরোড এলাকায় কেউ বাড়িঘর নির্মাণ করতে গেলে আগে সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়। তবে সবচেয়ে অত্যাচারের শিকার এখানকার ব্যবসায়ীরা। চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি কৌশলে তাদেরকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ফাঁদ সম্পর্কে তথ্য দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, উঠতি সন্ত্রাসীরা একরকম জোর করেই তাদের দোকানের মধ্যে ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র অথবা মাদকদ্রব্য রেখে যাচ্ছে। এর পরপরই সেখানে হাজির হন হ্যান্ডকাপ ও অস্ত্র হাতে সাদা পোশাকধারী লোকজন। তারা নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে দোকানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করেন ব্যাগে রেখে যাওয়া অস্ত্র বা মাদকদ্রব্য। এরপর দোকানিকে আটক করার প্রাক্কালে হাজির হচ্ছে উঠতি সন্ত্রাসীরা (যারা অস্ত্র-মাদকদ্রব্য রেখে গেছে)। এই সন্ত্রাসীরাই পুলিশ পরিচয়ের লোকজনের সাথে দেনদরবার করে টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিচ্ছে বিপদগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে। এজন্য দোকানির দ- যাচ্ছে ২০/৩০ হাজার টাকা। এমন কয়েকটি ঘটনার পর থেকে জেলরোডের ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, উপশহর ক্যাম্প পুলিশ উঠতি সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে তথ্য জানার পরও নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এমনকী প্রায়ই এই ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যের সাথে সন্ত্রাসীদের ঘোরাফেরা ও খোশগল্প করতে দেখা যায়। সূত্র মতে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠতি সন্ত্রাসীরা এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। এদের কারণে বাইরের অপরিচিত লোকজনেরও আনাগোনা বেড়েছে। সন্ত্রাসীরা রাতে জেলরোড দিয়ে চলাচলকারী যুবক-যুবতীদের আটকে রাখছে। পরে নানা অজুহাতে এদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। সূত্রটি জানায়, বাইরে থেকে লোকজনদের ধরে এনে মুক্তিপণ আদায়ও করছে দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসীরা।
এদিকে গত ৪ আগস্ট বিকেলে জেলরোডে চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আলী আকবর (২২) নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোড এলাকার চাঁদ মিয়ার পুত্র। জেলরোডে ‘ইমরান অটো’ নামে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয় একটি দোকানের সিসি ক্যামেরা ভেঙে দেয় সন্ত্রাসীরা। আলী আকবর এর প্রতিবাদ করায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী জুয়েল, এশা, জব্বার, আরিফ, শাহাদতসহ একদল সন্ত্রাসী তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে ব্যবসায়ী আলী আকবর রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে এ ঘটনার পরও পুলিশ কাউকে আটক না করায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক। তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

শেয়ার