দেবরের দিকে যশোর জাপা

 ভাবীপন্থিদের বিপক্ষে রাজপথে ঝাড়ু মিছিল

দেবু মল্লিক
দেবর-ভাবীর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ফের আলোচনার তুঙ্গে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান এইচএম এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি (জাপা)। মূলত সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে এই বিরোধ। যার জেরে এরই মধ্যে পার্টির একাংশের নেতারা রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। এর আগে এরশাদের ইচ্ছা অনুযায়ী দলটির চেয়ারম্যান করা হয় জিএম কাদেরকে।
গত ১৪ জুলাই হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মারা গেলে দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতার বিষয়টি সামনে আসে। নিজের অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে ভাই জিএম কাদের দায়িত্ব পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ। সেই অনুযায়ী গত ১৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে জিএম কাদেরকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এরপর ২৩ জুুলাই জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে অস্বীকার করে বিবৃতি দেন রওশনপন্থীরা। আর ৫ সেপ্টেম্বর তারা সংবাদ সম্মেলন করে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করেন। দেবর-ভাবীর ক্ষমতার দ্বন্দ্বের এই দোলাচলে সারাদেশে জোরেসোরেই আলোচনা হচ্ছে জাতীয় পার্টি নিয়ে।
এমন পরিস্থিতিতে যশোর জাপা কোনদিকে থাকবে তা নিয়ে কৌতুহল ছিল রাজনীতিসচেতন মহলের। এরই মধ্যে শনিবার প্রকাশ্য অবস্থান জানান দিয়েছে যশোর জেলা জাতীয় পার্টি। জিএম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রওশনপন্থীদের বিরুদ্ধে যশোরে ঝাড়– মিছিল করেছেন জাপা নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে পাল্টা চেয়ারম্যান হিসেবে রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা এবং বিভেদের রাজনীতির কৌশল নির্ধারণ করেছেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমামরা। তারা কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা না চাইলে দ্রুত তাদের বহিষ্কার করতে হবে।
যশোর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী বলেন, আমরা ঐক্যের পক্ষে। আমাদের নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে পার্টির চেয়ারম্যান মনোনীত করে গেছেন। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরকে মেনেই যশোরে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। যারা দলের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চক্রান্ত করছেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।
এদিকে, রওশনপন্থীদের প্রত্যাখ্যান করে তাদের অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে গতকাল যশোরে ঝাড়– মিছিল করা হয়েছে। গতকাল বিকালে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের দড়াটানা হয়ে বড়বাজারের মধ্যে দিয়ে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন নেতারা। এসময় যশোর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, সহ-সভাপতি অ্যাড. অকিল উদ্দিন, মুফতি ফিরোজ শাহ্, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান হিরণ, জেলা জাতীয় যুবসংহতির সভাপতি আবদুর রহমান বাদল চাকলাদার, সাধারণ সম্পাদক এস ইসলাম শফিক, জেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সাবেক সভাপতি নার্গিস বেগম জাতীয় যুবসংহতি, জাতীয় মহিলা পার্টি ও ছাত্রসমাজের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

 

 

শেয়ার