জমি নিয়ে বিরোধে মহেশপুরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউপিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ২৪ জন আহত হয়েছে। এঘটনায় উপজেলার মাইলবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান আলী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের মিজানুরসহ ১৬ জনের নামে মহেশপুর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। সংঘর্ষে খোশালপুর গ্রামের নজর উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর রহমানের পক্ষে ১৩ জন ও মাইলবাড়িয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে শাহজাহান আলীর পক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র মতে, মাইলবাড়িয়া গ্রামের শাহজাহান আলী পক্ষ ও খোশালপুর গ্রামের মিজানুর রহমান পক্ষের মধ্যে খোশালপুর মৌজার পূর্বপাড়া মাঠের ১০ একর ৭৭ পয়েন্ট সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে আদালতে মামলা চলে আসছিল। জানা যায়, খোসালপুর মৌজার ৫৪৬ দাগের ৪৫ নং খতিয়ানে জমির মালিক রয়েছেন, আব্দুল মজিদ মন্ডল, হামিদ মন্ডল, লতিফ মন্ডল, জালাল উদ্দীন, কামাল উদ্দিন। এ মৌজার (৫২-৫৭) ও (৭৮৬-৭৪৭) দাগের ৯০-৯১ নং খতিয়ানে জমির মালিক রয়েছেন, সামছুল হক মন্ডলের স্ত্রী কহিনুর খাতুন ও মান্দার বকস এর স্ত্রী রাবিয়া খাতুন। একই মৌজার ৭১৯/৭৮৬/৮৫১ নং দাগের ১৫০নং খতিয়ানে জমির মালিক রয়েছেন-মাইলবাড়ীয়া গ্রামের আবু তাহের মন্ডলের ছেলে ফজলুর রহমান। একই মৌজার ৭৮৬ নং দাগের ২০৬ নং খতিয়ানের জমির মালিক রয়েছেন-রাহেল বকসের স্ত্রী রশিদা খাতুন। এ মৌজার (৪৩/৪৮) ও (৭১৫/৭১৮/৮১০) দাগের ২৪২/২৪৪ নং খতিয়ানের জমির মালিক রয়েছেন, সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন। এ মৌজার ৪০৯ নং দাগের ২৪৭ খতিয়ানে জমির মালিক রয়েছেন, মাইলবাড়ীয়া গ্রামের আবু তাহের মন্ডলের ছেলে সুলতান মন্ডল। দলিল অনুযায়ী জমির মালিক দাবি করেন শাহজাহান। শাহজাহান আলীর পিতা ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৫৬ সালে হিন্দুরা জমি আমাদের দিয়ে যান। জমির খাজনা না দেওয়ার কারণে ১৯৬০ সালে জমি নিলাম হয়। পরে ওইছদ্দি মন্ডল, দিদার বিশ্বাস, মেহের মুন্সি জমিটি নিলাম নেন। আমাকে বলেন জমিটি ছেড়ে দিতে, কিন্তুু আমি জমিটি ছাড়িনি,পরে ওইছদ্দীন মন্ডলরা মামলা করেন। সেই মামলায় জিতে যান, পরে আমরা খুলনা ডিসি অফিসে মামলা করলে ডিসি জমি আমাদের দখল দিয়ে যান। আমি ১৯৮৫ সালে জমির খাজনা, নাম পতনসহ সমস্ত কাগজপত্র ঠিক করি। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ কোর্টে ওইছদ্দীন মামলা চালাতে থাকেন এবং একটি রায়ের কপির ভিত্তিতে ২০০৪ সালে জমিটি দখলে নেয় ওইছদ্দী মন্ডলরা। পরে আমরা ২০০৪ সালে হাইকোর্টে মামলা করি। হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দেয়। সেই রায়ের সূত্র ধরে গত ৪ সেপ্টেম্বর জমি দখল নিতে গেলে ওইছদ্দীনের উত্তরসূরী মিজানুররা বাধা দেন ও হামলা চালায়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানান, বহুবার শালিসের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করি, কিন্তু মিজানুররা জমির দখল ছাড়বে না, এজন্য সমাধান দিতে পারেনি।

SHARE