আগামী বছর সারা দেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে: ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে ‘বৈদ্যুতিক কর্মপেশায় দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বিদুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৬৪ জেলায় একযোগে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসন ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ৩০জন প্রশিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, মুজিব বর্ষে বৈদ্যুতিক কর্মপেশায় স্বল্পশিক্ষিত ১৪ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিদুৎ বিভাগ। প্রতি ব্যাচের প্রশিক্ষণের মেয়াদ হবে ৩৬০ ঘণ্টা বা দুই মাস। কোর্সে যারা দক্ষতার পরিচয় দেবেন তাদের বিদেশি ভাষায় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। অনেক সময় বিদেশে থেকে আমাদেরকেও বিদ্যুতের কাজের বিষয়ে টেকনিশিয়ান আনতে হয়। আর এর ফলে প্রচুর অর্থও খরচ হয়।
তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক কর্মপেশায় আমাদের দক্ষ শ্রমিক থাকলে সে অর্থ আমাদের থাকবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনীমসহ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী এসময় আরো বলেন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৪০ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছরে সব উপজেলায় ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে সব গবেষক আছে তারা কল্পনাও করতে পারেনি এই অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এতো অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশ অসম্ভব সম্ভব করার জাতি, আমরা ৯ মাস যুদ্ধ করে একটি দেশকে স্বাধীন করেছি। সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব।
ড. তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, নিজ এলাকায় আপনারা ঘরে বসে প্রশিক্ষণ নেবেন। এরপর পর কাউন্সিলিং শুরু হবে। এরপর দেখা হবে প্রশিক্ষণ পেয়ে তারা কি করতে পারে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে, সেটা জনশক্তি রপ্তানি হোক আর ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করা হোক। এ সুযোগগুলোকে আরো বেশি জানাতে পারলে তারা আরো আগ্রহী হবে। যেকোন জ্ঞানের অন্বেষণ কখানো বৃথা যায় না।
বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও সোনার বাংলা গড়ার জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়াস দক্ষ জনগোষ্ঠী। বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুততার সঙ্গে এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে আশা করছি। বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি বছর প্রায় ৭০ ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সাফল্যের পেছনে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য আমরা বিদেশেও পাঠাচ্ছি। আধুনিক ও বড় প্রকল্প আসছে। সেগুলো চালানোর জন্যও আমাদের দক্ষ জনশক্তি দরকার। এই জন্য প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার। আমরা বড় প্রকল্প নিয়েছি। প্রায় ৩০ একর জমির উপর পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট করা হবে। এই প্রশিক্ষণ বিশ্বমানের হবে।
গতকাল যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে সরাসরি এই এই ভিডিও কনফারেন্স হয়। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়ার জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল মান্নান, আরইবি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহান-ই শবনমসহ ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার