শার্শায় নিজঘরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ আসামি করা না হলেও এসআই খায়রুলকে প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের শার্শায় গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় ‘অভিযুক্ত’ গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খায়রুলকে বুধবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। যদিও মঙ্গলবার রাতে হওয়া মামলায় এসআই খায়রুলকে আসামি করা হয়নি।
যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সনাক্তের জন্য এসআই খায়রুলকে ভুক্তভোগীর নারীর সামনে নেওয়া হয়। কিন্তু এস আই খায়রুল ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে ওই নারী নিশ্চিত করেন। তবে সঠিক তদন্তের স্বার্থে খায়রুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুইজন হলেন সার্কেল এএসসি ও কোর্ট ইন্সপেক্টর। তিনদিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর এলাকায় তার বাড়িতে গিয়ে তার ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন গোড়পাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ও তার সোর্স। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে গণধর্ষণ করা হয়। তিনি গোসল না করে ওই কাপড় নিয়ে মেডিকেল রিপোর্ট করাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসেন। কিন্তু পুলিশ ছাড়াই সরাসরি ওই নারী এ ধরনের পরীক্ষা করাতে আসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবাক হন। হাসপাতাল থেকে বিষয়টি যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে জানানো হলে ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, সন্ধ্যার দিকে এসআই খায়রুলকে ওই নারীর সামনে আনা হয়। কিন্তু খায়রুলকে সনাক্ত করতে পারেননি ওই নারী। তবে অভিযুক্ত অন্য তিনজনকে মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল, লক্ষণপুর গ্রামের আবদুল লতিফ ও আবদুল কাদের।
জানতে চাইলে যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিম বাদী হয়ে শার্শা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকজন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এসআই খায়রুলকে প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খায়রুল কর্মরত থাকলে মামলার তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। যাতে নিরপেক্ষভাবে মামলার তদন্ত হয়, সেই জন্য তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার