টোলের আওতায় আসছে জাতীয় মহাসড়ক

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে টোলের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
তিনি বলছেন, টোল থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা দিয়েই সারা বছর সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যয় নির্বাহ করা হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের উৎসমুখে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দেন।
বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যে দেশের মহাসড়কগুলোকে টোল সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। টোল থেকে আদায়কৃত অর্থ একটা অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হবে। পরবর্তীতে ওই অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহাসড়কগুলোর মেনটেইনেন্স ব্যায় নির্বাহ করতে হবে।”
বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সেতু এবং ফ্লাইওভারে চলাচলের জন্য যানবাহনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো মহাসড়কে চলার জন্য টোল দিতে হয় না।
দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় সড়ক রয়েছে ২১ হাজার ৫৯৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক।
বিশ্বে অনেক দেশেই যে মহাসড়কে টোল আদায়ের ব্যবস্থা আছে, সে বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “টোলের জন্য বিশেষ করে জাতীয় মহা সড়কগুলোর কথা বলা হয়েছে। যেমন ঢাকা- চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা রংপুরৃ এসব মহাসড়কেই টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে।”
বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’ স্থাপন হওয়ার পর গাড়ির ওজন মাপার প্রক্রিয়া কেউ যেন ‘টেম্পারিং’ করতে না পারে সে জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
“যাতে মনিটরিংয়ের জন্য সমন্বিত একটি সার্কিট ব্যবস্থা থাকবে। ডিজিটাল সমন্বিত সার্কিট ব্যবস্থা থাকলে ফাঁকির পরিমাণ কমবে।”
মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত ভার নিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধে এদিন একনেকের বৈঠকে ২১টি ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬৩০ কোটি টাকা।

শেয়ার