অভিজ্ঞতা নয়, থাইল্যান্ডে এবার ভালো কিছুর আশা মেয়েদের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মেয়েদের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে এবার আর শুধু অভিজ্ঞতা অর্জন করা নয়, ভালো কিছু পাওয়ার আশা বাংলাদেশের। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ও অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানালেন গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তারা।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের চোনবুরিতে শুরু হবে এবারের আসর। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও স্বাগতিক থাইল্যান্ড। উদ্বোধনী দিনে থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ খেলবে মেয়েরা।
গতবার বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ সরাসরি মূলপর্বে উঠেছিল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে, জাপানের কাছে ৩-০ ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল মেয়েরা।
এবার অবশ্য দুই ধাপের বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে উঠেছে বাংলাদেশ। বাছাইয়ের প্রথম পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে রানার্সআপ হয়ে মূল পর্বে উঠেছে তারা। এবার তাই অভিজ্ঞতা নিয়ে থাইল্যান্ড যাওয়ার তৃপ্তি আছে রব্বানীর।
“গতবার বড় একটা অভিজ্ঞতার ফারাক ছিল। বাছাইপর্ব শেষেই সরাসরি চূড়ান্ত পর্ব খেলতে হয়েছিল। অভিজ্ঞতার ঘাটতিটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে প্রথম ম্যাচের পর কিন্তু মেয়েরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল এবং ভাল খেলেছিল।”
“এবার কিন্তু অন্যরকম। ঢাকায় প্রথম বাছাইপর্ব খেলার পর দ্বিতীয় বাছাইপর্ব খেলি মিয়ানমারে। সেখানে কিন্তু সব চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ দলগুলো খেলেছিল। সবার সংশয় ছিল মেয়েরা পারবে কি-না। চীন, মিয়ানমার, ফিলিপাইনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তপর্বে চলে যায়। মেয়েরা যে উন্নতির পথে আছে, সেটার প্রমাণ সেখানে তারা দিয়েছে।”

“আরেকটা ভাল দিক হলো গত দু’বছরে মেয়েরা অনেকগুলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছে। সিনিয়র দলের হয়েও এই মেয়েরা খেলেছে। সাফ খেলে আসার পর ৪ মাস সময় পেয়েছি। এই সময়টায় ফিজিক্যাল, ট্যাকটিক্যাল, টেকনিক্যাল দিক নিয়ে অনেক কাজ করেছি। মেয়েরা অনেক বেশি আত্ববিশ্বাসী।”
“জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোর সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা এখন মেয়েদের আছে। যেটা অবশ্যই বাড়তি আত্ববিশ্বাস জোগাবে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচ। আরেকটা ব্যাপার হলো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, যেটা হচ্ছে প্রথমবারের মতো।”
চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পাওয়া মাহমুদা আক্তার, আঁখি খাতুন, আনাই মগিনি, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, সুলতানা, আনুচিং মোগিনি, শামসুন্নাহার সিনিয়র এবং তহুরা খাতুনের ২০১৭ সালের চূড়ান্তপর্ব খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
পরীক্ষার জন্য সাজেদা খাতুন ছিলেন না মিয়ানমারে খেলা দলে। ইলা মনির জায়গায় ফিরেছেন তিনি। বাকি ১২ জনের সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে।
কোচের মতো অধিনায়ক মারিয়া মান্ডাও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো শুরুর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
“কোচের মতো আমিও মনে করি প্রথম ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জোর লড়াই করব। ম্যাচটি জিততে পারলে আমি মনে করি (সেমি-ফাইনালে ওঠা সহজ) হয়ে যাবে।”

শেয়ার