যশোরে সৎ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পিতার নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্ত্রীর সাথে ধারের টাকা নিয়ে গোলযোগে সৎ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সৎ পিতার নামে থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সদর উপজেলার আগ্রাইল গ্রামে এঘটনার পর ওইদিনই মেয়ের মা রেশমা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। আসামি নাজমুল আহসান বাঘারপাড়া উপজেলার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের কারিগর পাড়ার মৃত কুবাদ আলী চৌধুরীর ছেলে।
মামলার বাদী নিহত সুমির মা জানিয়েছেন, ২৬ বছর আগে নাটোরের হারুন নামে এক ব্যক্তির সাথে তার বিয়ে হয়। সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধী সুমির জন্ম হয়। মেয়ের ৬ মাস বয়সে সুমিসহ তাকে ফেলে চলে যান হারুণ। ২৫ বছর আগে বাঘারপাড়া উপজেলার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের কারিগর পাড়ার নাজমুল আহসানের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। নাজমুলের সাথে সংসারকালে তার গর্ভে আরো ৫টি সন্তানের জন্ম হয়। চারটি সন্তান রেশমার পিতা-মাতার কাছে থাকে। আর প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমি এবং স্বামী নাজমুল আহসানকে নিয়ে রেশমা ঢাকার কুমারঘাট আজিজিয়া জামে মসজিদ এলাকার আব্দুল লতিফের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। স্বামী নাজমুল আহসান রিক্সা চালায় আর প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমিকে একটি ঠেলা গাড়িতে করে চকবাজার শাহী জামে মসজিদ এবং জিগাতলা গাবতলা মসজিদ এলাকায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্বামী নাজমুল বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী রেশমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নেন। ঈদ করার জন্য স্বামী ও মেয়ে নিয়ে রেশমা গত ৬ আগস্ট ঢাকা থেকে বাঘারপাড়ায় আসেন। এরপর ৮ আগস্ট সবাই পৈত্রিক বাড়ি আগ্রাইলে আসেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট নাজমুলের ঘরে জন্মের রেশমার বড় মেয়ে সাথী খাতুনকে বিয়ে দেন। ওই বিয়েতে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ধার করে ২০ হাজার টাকা খরচ করেন রেশমা। মেয়ের বিয়েতে খরচের ২০ হাজার টাকা ইতিপূর্বে স্বামী নাজমুলকে দেয়া ধারের এক লাখ টাকা থেকে দেয়ার জন্য বলা হয়। এ নিয়ে ২৮ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে ঝগড়া হয়। বিকেল ৪টার দিকে রেশমার ভগ্নিপতি রেজাউল ইসলামের সাথে নাজমুল আহসান খাজুরা বাজারে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভগ্নিপতি রেজাউল বাড়ি ফিরে এলেও নাজমুল আহসান আসেনি। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ২টার দিকে রেশমার বড় বোন তার মাকে বাথরুম করিয়ে আবার শুয়ে পড়েন। ২টা ১৫ মিনিটের দিকে নাজমুল এসে ধারালো ছোরা দিয়ে বারান্দায় রেশমার মায়ের কাছে শুয়ে থাকা প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে চলে যায়। এসময় মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সুমিকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার রেশমা খাতুন বাদী হয়ে স্বামী নাজমুলের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
এদিকে এ ঘটনার দুইদিন পার হলেও আসামি নাজমুলকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহাজুল ইসলাম বলেছেন, আসামি আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার