যশোরে মিনারুলের খুনি হাফিজুরের স্বীকারোক্তি ।। স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতে ১৫ বছর পর হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে মিনারুল (৩৮) হত্যার মূল আসামি হাফিজুর রহমানকে (৪৫) আটক করেছে যশোর পিবিআই। শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার উসমানপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পিবিআই। রোববার (২৫ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়ে পিবিআই জানিয়েছে স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকা- ঘটায় হাফিজুর। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিকের আদালতেও ধৃত হাফিজুর এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়াউর রহমান জানান, গত ১৪ আগস্ট রাতে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শালতা গ্রামে মিনারুল খুন হন। খুনের ঘটনায় নিহতের ভাই আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করতে ব্যর্থ হলে পিবিআই দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিনারুল হত্যাকা-ের মূল পরিকল্পনাকারী একই গ্রামের চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়। সে হত্যাকা- এবং হত্যার মূল কারণ প্রকাশ করে।
হাফিজুর পুলিশকে জানিয়েছেন ঈদুল আযহার কয়েকদিন আগে মিনারুলের বাড়িতে যান। আবার ঈদের পরদিন রাত ১টার দিকে মিনারুল এর সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যান হাফিজুর। ওই রাতেই হাফিজুর এবং মিনারুল বাড়ির পাশে একটি আম গাছের নিচে বসে দু’জনে বিড়ি খান। এরপর ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে একটি দা ও একটি গামছা মিনারুলের বাড়ির ২০০ গজ দূরে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। মিনারুলকে খুন করতে গায়ে যাতে রক্ত না লাগে সেজন্য খালি গায়ে একটি গামছা নিয়ে হাফিজুর বাড়িকে যায়। এসময় মিনারুলের স্ত্রী সাথী খাতুন পাশে বসে মোবাইল ফোনে ভারতীয় সিআইডি ¯্রয়িাল দেখছিল। আর ওই সময় মিনারুল গরুর জন্য বিছালি কাটছিল। হাফিজুর সেই সময় মিনারুল এর সাথে কয়েক মিনিট কথা বলে বাড়ির বাইরে যায় এবং মিনারুলের বাড়ির দিকে লক্ষ্য রাখেন। হাফিজুর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিনারুলকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। হাফিজুর কৌশলে বাড়ি থেকে একটু দূরে জঙ্গলে মেগনেট জাতীয় জিনিস আছে বলেন। মিনারুল নিচু হয়ে টর্চ লাইট জালিয়ে মেগনেটটি খুঁজতে থাকে। সেই সুযোগে আসামি হাফিজুর পেছন থেকে দা দিয়ে মিনারুলের ঘাড়ে দুইটি কোপ দেন। মিনারুল পেছনে ঘোরার চেষ্টা করলে হাফিজুর তার হাতে থাকা দা দিয়ে মিনারুলের কপালে দায়ের উল্টা পিঠ দিয়ে আঘাত করেন। মিনারুল মাটিতে পড়ে গেলে বাড়িতে চলে যান হাফিজুর। এঘটনার মামলায় হাফিজুরকে আটকের পর তার স্বীকারোক্তি মতে মিনারুলকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা টি হাফিজুরের বসতঘরের বারান্দা থেকে জব্দ করা হয়।

শেয়ার