যশোরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে সালমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ হত্যা মামলায় তার স্বামী ফারুক হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক ফারুক সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোজাডাঙ্গা (দক্ষিণ শ্রীপুর) গ্রামের নুর ইসলাম ওরফে নুরু ঢালীর ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ফারুক হোসেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার ইকরামুল ইসলাম ইকু চৌধুরীর পুকুরপাড়ে একটি ঘর করে বসবাস করতেন। ১০ বছরের একটি মেয়েকে ফেলে তার প্রথম স্ত্রী একজন মোটরমিস্ত্রির হাত ধরে অজনার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। এরপর ৩ বছর আগে তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নোড়ারচক গ্রামের মৃত আব্দুল বারীর মেয়ে সালমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ফারুক হোসেন পুনরায় প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। এ জন্য দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা খাতুনকে নির্যাতন করতে থাকেন। গত বছরের ৭ অক্টোবর রাত ১১ টার দিকে সালমা খাতুন হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এজন্য তাকে রাতে কোয়াক ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন সকালে তার বুকে ব্যাথা শুরু হলে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে সালমার মৃত্যু রহস্যজনক সন্দেহ হলে অপমৃত্যু মামলা হলেও লাশের ময়নাতদন্ত করানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই হত্যার জন্য তার স্বামীকে ফারুক হোসেন দায়ি বলে সালমা খাতুনের ভাই জাকির হোসেন অভিযোগ করেন। এজন্য তিনি ফারুক হোসেনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন, ফারুক হোসেনের মা ফজিলা বেগম ও ছোট ভাইয়ের শ্যালক তুহিন গাজী। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ফজিলা বেগম ও তুহিন গাজীকে আটক করে।

শেয়ার