যশোরে পুস্তক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে নিকটাত্মীয়কে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে প্রসিদ্ধ পুস্তক ব্যবসায়ী জহির বুক ডিপো বর্তমানে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বই নিকেতনের মালিক জহির উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে তার নিকটাত্মীয়কে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ কোতোয়ালি থানায় দেয়ায় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। যদিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জহির উদ্দিন খান। তার বক্তব্য তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন নিয়মকানুন মেনে। পরে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে যে ধর্ষণের অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা মিথ্যা। জহির উদ্দিন খান উপশহর সারথী মিলের পাশের (বর্তমান ঘোপ সেন্ট্রাল রোড হলুদ মিলের সামনে) মৃত আবুল হোসেন খানের ছেলে।
অভিযোগে জানা গেছে, মাগুরা সদর উপজেলার সত্যপুর গ্রামের এক নারী দুই সন্তানের জননী বর্তমানে উপশহর এক নম্বর সেক্টরের প্রাইমারি স্কুলের সামনে তার ছোট বোনের বাড়িতে বসবাস করেন। ভরণ পোষণ না দেয়ায় তার স্বামীকে তালাক দেন তিনি। ওই নারীর ছোট বোনের ভাসুর জহির। তিনি ওই বাড়িতে প্রায় সময় যাতায়াত করতেন। জহিরের স্ত্রী মৃত্যু শয্যায়। এই কারণে তকে বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হতো। তিনি বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন। কিন্তু জহির তাকে প্রস্তাব দেন বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সামাজিকভাবে বিয়ের স্বীকৃতি দেয়া হবে।
প্রায় ৮ মাস আগে জহির তার তিন বন্ধুকে সাথে নিয়ে মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে এক হুজুর দিয়ে বিয়ে পড়ান। এরপর থেকে জহির প্রায় সময় ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থ্াপন করতেন। বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে বললে পরে করা হবে বলে জহির জানান। প্রায় ৪ মাস আগে তার স্ত্রী মারা যান। এরপর তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে আজ না কাল বলে ঘোরাতে থাকে। বিয়ের কাজ রেজিস্ট্রি করার কথা বললে একই পন্থা অবলম্বন করে। জহির তার সাথে ছলনা করছে এই বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু গত ৫ মে ওই বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে চাকুর ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক শারীকির সম্পর্ক স্থাপন করে। এবং এই কথা অন্যদের বললে খুন করা হবে বলে হুমকি দেন জহির। সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট দড়াটানায় জহিরের সাথে দেখা করে তাকে বিয়ের কাগজ রেজিস্ট্রি করার কথা বলা হয়। তখন সে জানায় তাকে বিয়ের বিষয়টি মিথ্যা ছিল। তাকে এখন বিয়ে করতে হলে অনেক টাকা দিতে হবে। তা না হলে তাকে বিয়ে করবে না। তাকে সে সময় জীবণনাশের হুমকিও দেয়া হয়।
ওই নারীর অভিযোগ জহির উদ্দিন খান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিয়ের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।
এই অভিযোগটি তদন্ত করছেন কোতয়ালি থানার এসআই নুর ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, একজন নারীর একটি অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জহির উদ্দিন খানে বক্তব্য তিনি ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং গত ৭ জুলাই তাকে তালাক দেয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি দেখিয়েছেন পুলিশকে। ওই কাগজ পত্র সঠিক আছে কি-না তা যাচাই করা হচ্ছে। তাছাড়া তালাক যদি হয়েও থাকে তাহলে ওই নারী ভরণ পোষনের অর্থ বা দেনমহরানার টাকা সঠিক ভাবে পেয়েছেন কি-না তা যাচাই করতে হবে। তবে বিষয়টি আরো তদন্ত করে একটি ফয়সালা করা হবে।

SHARE