যশোরে উৎপাদিত মাছ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

সালমান হাসান রাজিব
চাহিদার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি মাছ উৎপাদন হয় যশোরে। উৎপাদিত মাছ জেলার চাহিদা পূরণের পর দেশের অন্যান্য প্রান্তে পাঠানো হয়। রপ্তানি করা হয় বিদেশেও। তবে যশোরে বিপুল পরিমাণ মাছ উৎপাদন হলেও সেটি কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এখানকার মৎস্য চাষিদের অনেকে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, খামারে মুরগি পালনে নানা রকম এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। যেগুলো মুরগির বিষ্ঠার মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এগুলো ধ্বংস হয় না। তাই এগুলো মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি ঘটাতে পারে।
জানা গেছে, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদিত মানসম্মত মাছের খাবার পাওয়া যায়। কিন্তু এসব খাবারের দামের তুলনায় মুরগির বিষ্ঠার দাম অনেক কম। বলা যায় নামমাত্র মূল্য। তাই অধিক মুনাফার জন্য চাষিদের অনেকে মাছের খাবার হিসেবে ক্ষতিকর বিষ্ঠা ব্যবহার করছে। সরকারিভাবে মাছের খাবার হিসেবে মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার নিষিদ্ধ।
বাজারে মানভেদে মাছের খাবারের ‘ভাসমান ফিশ ফিড’র দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১২০ টাকা। অপর দিকে ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের একটি বিষ্ঠার বস্তার দাম মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা। এজন্য অধিক মুনাফার জন্য নামমাত্র মূল্যে মাছের খাবার হিসেবে চাষিদের অনেকে ক্ষতিকর বিষ্ঠা ক্রয় করছে। তবে মাছ উৎপাদনে ক্ষতিকর মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার ক্রমশ বাড়লেও মৎস্য বিভাগ থেকে কার্যকর তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) যশোর স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালিহা হোসেন মৌ জানান, মাছ চাষিদের এখন গুড অ্যাকোয়াকালচার (জিএপি) বা উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলন করতে বলা হচ্ছে। এটির উদ্দেশ্য হলো ভোক্তাদের জন্য মানসম্পন্ন ও নিরাপদ মাছ উৎপাদন করা। শুধুমাত্র মুরগির বিষ্ঠা নয়; এখন মাছের পুকুরে গরুর গোবরও দিতে নিষেধ করা হচ্ছে।
মুরগির খাবারের সাথে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় সেগুলো বিষ্ঠার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। এসব বিষ্ঠা খাবার হিসেবে গ্রহণের ফলে মাছের শরীরে ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিক ঢুকে পড়ে। এছাড়া মুরগির বিষ্ঠার মাধ্যমে আমাশয়ের জীবাণুও মাছের দেহে প্রবেশ করে। তাই মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে চাষ করা মাছ মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানান তিনি।
যশোর জেলা মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক এসএম আশিকুর রহমান জানান, ফার্মের মুরগির খাবারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে এন্টিবায়োটিক মেশানো। আর প্রক্রিয়াজাত না করে সরাসরি মাছের খাবার হিসেবে এসব মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তিনি আরো জানান, মাছ চাষে ক্ষতিকর মুরগির বিষ্ঠার ব্যবহার প্রতিরোধে সরাসরি কোনো আইন নেই। কিন্তু যখন মাছের পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারের খবর পাওয়া যায় তখন মাছে অপদ্রব্যের ব্যবহার প্রতিরোধে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য ( পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ১৯৯৭ নামে একটি আইন রয়েছে। এই আইন প্রয়োগ করে মাছে চাষে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এটির ব্যবহার বন্ধে মৎস্য বিভাগ থেকে প্রায়ই অভিযান চালানো হয়।