ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট বলছে আত্মহত্যা
যশোরে রয়েল ‘হত্যা’র বিচার চেয়ে আদালতে যাওয়া স্বজনরা হতাশ

লাবুয়াল হক রিপন
ছেলে ‘হত্যার’ বিচারের আশায় আদালতে ৫ জনকে আসামি দিয়ে মামলা করেছিলেন মা শুকজান বিবি। কিন্তু ময়না তদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে সন্তান হারা মায়ের আর বিচারের আশা থাকছে না। গতকাল যশোর আদালতে মামলার সর্বশেষ খবর জানতে এসে এই খবর পান মৃত রয়েলের ভাই। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ন্যায় বিচার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
যশোর সদর উপজেলার নারাঙ্গালি গ্রামের মেঠোপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে রয়েল হোসেন (২৫) গ্রামেই একটি ঘেরে মাছের চাষ করতেন। ঘেরে মাছের চাষ এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কিছু লোকের সাথে তাদের পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে একই গ্রামের মহলদার পাড়ার চিটুর ছেলে খোকন বাড়িতে এসে রয়েলকে ডেকে নেয়। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ায়র সময় রয়েলের মা শুকজান বিবি কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে সে বলে খোকনের সাথে ঘেরে যাচ্ছি। কারণ খোকনসহ কয়েকজনে ২০ সেপ্টেম্বর কিছু মাছ ক্রয় করবে। বাড়ি থেকে সন্ধ্যায় বের হলে আর ফিরে আসেনি রয়েল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে রয়েলের বোন ও মা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর নিয়ে শেষে ঘেরে যান। ঘেরের এক পাশে মুখে গ্যাজলা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন রয়েলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজে রেফার করেন যশোরের চিকিৎসকরা। অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া পর্যন্ত গেলে রয়েল মারা যান। এঘটনায় তাৎক্ষণিক কোতোয়ালি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়।
এদিকে রয়েলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তার মা শুকজান বিবি গত বছরের ১৮ অক্টোবর ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
আসামিরা হলো, একই গ্রামের মহলদার পাড়ার চিটুর ছেলে খোকন, ইছাপুর গ্রামের ফকির আলীর ছেলে তুহিন, নারাঙ্গালী গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মনুখের ছেলে বাবু, নারাঙ্গালী গ্রামের মেঠোপাড়ার আফজালের ছেলে আমিন ও আসলামের ছেলে রাসেল।
এঘটনায় থানায় আর কোন মামলা হয়েছে কিনা তা জানতে কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেন দেন বিচারক। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে মর্মে এসআই নজরুল ইসলাম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মাস তিনেক আগে রয়েলের মৃত্যুর বিষয়ে ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম। ওই রিপোর্টে রয়েল বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ছেলে ‘হত্যার’ বিচারের আশায় আদালতে ৫জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও ওই মামলা আর টিকছে না।