দুপুর হলেই অফিসে তালা দেন আসলাম
সুরতহাল রিপোর্ট হলেও লাশের আটকে থাকে ময়নাতদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পুলিশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি হলেও যশোর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আসলামের কারণে তন্নি নামে এক নারীর ময়নাতদন্ত হয়নি। অভিযোগ উঠেছে কর্মচারী আসলাম অফিস বন্ধ করে বাড়ি চলে যাওয়ায় পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট জমা দিতে পারেননি। এমনকি মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করেও ফল পাননি তন্নির স্বজনসহ প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সর্বশেষ এমন ঘটনা হলেও এমন ভোগান্তি প্রতিনিয়ন। কর্মচারী আসলামের খাম খেয়ালিপনার কারণে প্রতিনিয়ত যশোর জেনারেল হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত করতে এসে ভুগান্তির শিকার হচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনসহ মৃতের অভিভাবকরা। মৃত তন্নির যশোর সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের লাল্টু হোসেনের মেয়ে।
মৃতের মামা বজলুর রহমান জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তন্নি বৃহস্পতিবার সকালে বিষপান করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটার দিকে তন্নির মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন ও পুলিশ প্রশাসনে সহযোগিতায় তন্নির লাশের সুরতহাল সাড়ে তিনটার মধ্যে তৈরি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আসলামের রুমে যাওয়া হয়। কিন্তু তিনি নিজের রুম বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। তখন স্বজন ও পুলিশ কর্তারা মোবাইল ফোনে আসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আসতে পারবেন না বলে তাদের জানান। বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করলে রিপোর্টাররা ওই কর্মচারীর মোবাইলে যোগাযোগ করলে আসলামের ফোন বন্ধ পায়।
হাসপাতাল সূত্র মতে, সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হলে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করবেন। কিন্তু স্বাজনরা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা আগে তন্নির লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী আসলাম হোসেন অফিসে না থাকায় পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট জমা দিতে পারেননি। ফলে লাশেরও ময়নাতদন্ত হয়নি। শুধু গতকাল না; প্রতিদিন আসলাম এমনি ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে শাহানুর আলম আসলাম জানান, অফিস সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বাড়িতে চলে যান। তিনি বলেন সকাল আটটা থেকে আড়াইটার পর্যন্ত অফিস। এ সময়ের মধ্যে কাগজপত্র পেলে ময়নাতদন্ত হয়। অফিস সময়ের পরে সুরতহাল রিপোর্টের কাগজ জমা নেওয়া হয়না।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, জনবল সংকটের কারণে একজন ব্যক্তির দিয়ে চালানো হচ্ছে মর্গ বিভাগ। সিফটিং পদ্ধতি না থাকায় এই সমস্য তৈরি হয়েছে। তবে লাশের স্বজন ও পুলিশ প্রশাসনের ভোগান্তি কমাতে অচিরেই রোস্টার পদ্ধতি চালু করা হবে।

SHARE