যশোরে ৭ বস্তি উন্নয়নে ব্যয় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

জাহিদ হাসান
তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় যশোর পৌরসভার ৭টি বস্তি উন্নয়নে নানামুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে যশোর পৌরসভা। বাংলাদেশ সরকার, এডিপি এবং ওএফআইডি সহায়তায় যশোর পৌরসভা ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৪০২ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, যশোর পৌরসভার অধীনে বস্তিতে গৃহহারা জনগোষ্ঠীর বাসস্থান ও পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে যশোর পৌরসভার ৭টি বস্তিতে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ফুটপাত ড্রেনসহ স্লাব, ৩ পরিবারের জন্য ১টি করে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও ডিপ টিউবওয়েল বসানো হবে। রাতে আলোর জন্য বসানো হবে সৌর স্ট্রিটলাইট। বস্তির পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার জন্য বসানো হবে ডাস্টবিন। বস্তিগুলোতে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য লাগানো হবে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ওষাধি গাছ। যা এই ৭টি বস্তির ৬ হাজার ৬৪৮ জন বসবাসরতদের জন্য ব্যয় করা হবে ৫কোটি ৫৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৪০২ টাকা। বস্তিগুলো হলো ২ নং ওয়ার্ডের বাগদীপাড়া ও ঘোড়ায়ালার বস্তি, ৩ নং ওয়ার্ডের জেল রোড ধানপট্টি বস্তি, ৪ নং ওয়ার্ডের আমবাগান নিরিবিলি বস্তি, ৫ নং ওয়ার্ডের গফফার ও মাখনের বস্তি, ৬ নং ওয়ার্ডের লালদীঘি গাড়ীখানা বস্তি, ৭ নং ওয়ার্ডের জমাদ্দার পাড়া ও মিলপাড়া বস্তি, ৯ নং ওয়ার্ডের হুশতলা জোড়া মন্দির বস্তি।


যশোর পৌরসভার বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার বলেন, পৌরসভার ৩৭টি বস্তির মধ্যে ৭টি হতদরিদ্র বস্তির যাচাই বাছাই করে নোংরা পরিবেশে দুঃসহ জীবনযাপন থেকে মুক্তি দিতে বস্তি উন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। সেই লক্ষে বাগদীপাড়া ও ঘোড়ায়ালার বস্তির ২ দশমিক ৭ একর জমির মধ্যে ১৮০ টি পরিবারের জন্য ১৮টি টয়লেট, ১টি ডাস্টবিন, ৫২৭ মিটার ফুটপাত ও পাশ দিয়ে ১০০টি গাছ রোপন করা হবে। ৭০ মিটার ড্রেন ও ৪১৭ মিটার স্লাব এবং ১টি সোলার লাইট ও ৭টি টিউবওয়েল বসানো হবে।
জেল রোড ধানপট্টি বস্তির ৭ দশমিক ৫৭ একর জমির মধ্যে ২৮৫ টি পরিবারের জন্য ১৫ টি টয়লেট, ১টি ডাস্টবিন, ৫৯৭ মিটার ফুটপাত ও পাশ দিয়ে ১০০টি গাছ রোপন করা হবে। ৩০৯ মিটার ড্রেন ও ৫৬৭ মিটার স্লাব এবং ১টি সোলার লাইট ও ৭টি টিউবওয়েল বসানো হবে। আমবাগান নিরিবিলি বস্তির ১২ দশমিক ৭৫ একর জমির মধ্যে ৩৩০ টি পরিবারের জন্য ২৩ টি টয়লেট, ১টি ডাস্টবিন, ৪০৬ মিটার ফুটপাত ও পাশ দিয়ে ১০০টি গাছ রোপন করা হবে। ৩৭২ মিটার ড্রেনসহ স্লাব এবং ১টি সোলার লাইট ও ৪টি টিউবওয়েল বসানো হবে।
লালদীঘি গাড়ীখানা বস্তির ১ দশমিক ৩৭ একর জমির মধ্যে ১২০টি পরিবারের জন্য ৭ টি টয়লেট, ১টি ডাস্টবিন, ৭৮৫ মিটার ফুটপাত ও পাশ দিয়ে ১০০টি গাছ রোপন করা হবে। ৭২২ মিটার ড্রেনসহ স্লাব এবং ১টি সোলার লাইট ও ৩ টি টিউবওয়েল বসানো হবে।
জমাদ্দার পাড়া ও মিলপাড়া বস্তির ১৬ দশমিক ৯ একর জমির মধ্যে ৩৬০টি পরিবারের জন্য ৯ টি টয়লেট, ১টি ডাস্টবিন, ৯২৩ মিটার ফুটপাত ও পাশ দিয়ে ১০০টি গাছ রোপন করা হবে। ৫৫৫ মিটার ড্রেণসহ স্লাব এবং ১টি সোলার লাইট ও ১টি টিউবওয়েল বসানো হবে।
হুশতলা জোড়া মন্দির বস্তির ১০.৬৮ একর জমির মধ্যে ৩৪৫টি পরিবারের জন্য ১৮ টি টয়লেট, ১টি ডাস্টবিন,৪৮৯ মিটার ফুটপাত ও পাশ দিয়ে ১০০টি গাছ রোপন করা হবে। ৪৫৯ মিটার ড্রেনসহ স্লাব এবং ১টি সোলার লাইট ও ১ টি টিউবওয়েল বসানো হবে।
বস্তি উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা বলেন, ৪ নং ওয়ার্ডের মধ্যে আমবাগান নিরিবিলি বস্তিতে ৩৩০টি পরিবারের মধ্যে উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের পরিবেশের জন্য পৌরসভা যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন নকশা প্রস্তুত করেছে।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেনের জানান, বাংলাদেশ সরকার এডিবি এবং ওএফআইডি সহায়তায় তৃতীয় তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প আওতায় যশোর পৌরসভার ৭টি বস্তি উন্নয়নে পৌরসভা বাস্তবায়ন করবে। যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু এই প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করবেন চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহে। সেই লক্ষ্যে যাবতীয় অর্থবরাদ্দ স্ব-স্ব বস্তি উন্নয়ন কমিটির কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছে। এই আওতায় যশোর পৌরসভার ৭টি ওয়ার্ডে ৭টি বস্তি উন্নয়ন করা হবে। এতে ১ হাজার ৯২০টি পরিবারের ৬ হাজার ৬৪৮ জন ব্যক্তির জনজীবন উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে।