যশোরে জমেনি ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় চামড়াহাট

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের চামড়ার মোকাম রাজারহাটে ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় হাট জমেনি। এ হাটে ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা ছিল অপেক্ষাকৃত কম। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কাঁচাচামড়া রফতানির ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। যেকারণে তারা চামড়া সংগ্রহে রেখেছেন। তবে যারা চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন তারা প্রাপ্য দাম না পেয়ে হতাশ হয়েছেন। শনিবার এক হাজার পিস গরু ও ছাগলের চামড়া নিয়ে এসেছিলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এলাকার গোপাল চন্দ্র দাস। কিন্তু কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে বেশিরভাগ চামড়া তিনি ফেরত নিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ৩০ বছর ধরে এ ব্যবসার সাথে জড়িত, কিন্তু চামড়ার এরকম দরপতন আগে কখনও দেখিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করা, লবণ লাগানো এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে যে চামড়ার ফুট ৫০ থেকে ৬০ টাকা পড়েছে, সেখানে রাজারহাটে চামড়ার ফুট বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা হিসেবে।
ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা কাঁচাচামড়া কেনা শুরু করলেও চামড়ার মোকাম রাজারহাটে কোনো প্রভাব পড়েনি। শনিবার ঈদের পরের প্রধান হাটেও চামড়ার দাম ছিল কম। হাটে চামড়াও উঠেছে অল্প পরিমাণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, চামড়া রফতানির সরকারি ঘোষণার পর পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় সেটা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশেই ব্যবসায়ীদের অনেকে এ হাটে বেচাকেনা থেকে বিরত থেকেছেন। এছাড়া ঢাকার ট্যানারি মালিকরা বকেয়া টাকা না দেয়ায় কাক্সিক্ষত পরিমাণ চামড়া কিনতে পারেননি তারা।
ঈদের পরদিন রাজারহাট প্রায় ক্রেতাশূন্য থাকলেও শনিবার দ্বিতীয় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল মোটামুটি। তবে সেই তুলনায় চামড়ার যোগান ছিল কম। বিক্রেতারা বলছেন, সরকার চামড়া রফতানির ঘোষণা দেয়ায় দরের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করলেও হাটে এসে হয়েছেন আশাহত।
নড়াইলের শফিয়ার রহমান জানান, তিনি ৯০ পিস গরুর চামড়া এনেছিলেন। কিন্তু ১৪ পিস চামড়া বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা ফুট হিসেবে। বাকি চামড়া লোকসানের আশঙ্কায় বাড়ি ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। যশোরের মণিরামপুরের কোণাকোলা গ্রামের হাজারি লাল দাস জানান, তিনি শনিবার রাজারহাটে ৮শ’ পিস গরু এবং ৩শ’ পিস ছাগলের চামড়া এনেছিলেন। তিনি বলেন, আমার ব্যবসায়ী জীবনে চামড়ার এত কম দাম আগে দেখিনি। সব মিলিয়ে যে দামে চামড়া সংগ্রহ করেছি, তার বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না। যদি লাভই না হয় তাহলে এ ব্যবসা করব কেন।
যশোরের ব্যাপারী শেফার্ড আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ট্যানারি মালিকরা যে দামে কিনতে বলছেন- বাজারে সেই দামে চামড়া মিলছে না। ফলে লোকসান হওয়ার শঙ্কায় তারাও। ট্যানারি মালিকরা তাদের টাকা পরিশোধ না করায় সব ব্যাপারি নগদ টাকার সংকটে রয়েছেন। যেকারণে চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণেও আজ হাট জমেনি। গতকাল বাজার না জমলেও আগামী শনিবার হয়তো বাজার জমে উঠবে।
খুলনার ফুলতলার সুপার ট্যানারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম নিম্নমুখী। এক ডলারে আমাদের চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। সেই তুলনায় অধিকমূল্য পরিশোধ করছেন তারা।
যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে রাজারহাট ব্যবসায়ীদের ২০ কোটি টাকার উপরে পাওনা রয়েছে। মূলত নগদ টাকার সংকট এবং গতকাল বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজারহাটে চামড়ার হাট জমেনি। আবার সরকারের কাঁচাচামড়া রফতানির ঘোষণার পর বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বেশিরভাগ ব্যবসায়ী। যেকারণে তারা চামড়া সংগ্রহে রেখেছেন। আগামী হাটে আনার জন্য। তারপরও হাটে কোটি টাকার চামড়ার হাতবদল হয়েছে। আশা করছি আগামী শনিবারের হাট জমজমাট হয়ে উঠবে।

SHARE