৭০ টাকার ভাড়া ৪০০!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ গাবতলী পৌঁছাতেই চোখে পড়লো অনেকগুলো গাড়ি সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে, গন্তব্য আরিচা-পাটুরিয়া। ঈদযাত্রায় বাসের আগাম টিকিট যারা সংগ্রহ করতে পারেননি, নৌপথে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রার জন্য তাদের ভরসা এই বাসগুলোই। সেই বাসগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে যাত্রী ডাকছেন হেলপাররা। কিন্তু ভাড়া শুনেই চক্ষু চড়কগাছ! গাবতলী থেকে আরিচার ভাড়া নাকি ৪০০! ঈদ এলেই এমন চিত্র। ঈদযাত্রার আগাম টিকিট বিক্রির একদিনের মধ্যেই শেষ। এরপর ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেলেও বড় একটি অংশের মানুষের হাতে নেই টিকিট। তখন ভরসা নদীপথ। গাবতলী থেকে আরিচা-পাটুরিয়া। সেখানে নদী পার হয়ে উত্তর বা দক্ষিণের জেলাগুলোতে রওনা। একটু ভেঙে যেতে হলেও তাতে আপত্তি নেই যাত্রীদের। কিন্তু গোলটা বাঁধে ওই গাবতলীতেই। সারাবছর যে রাস্তা ৭০ টাকায় যাতায়াত করা যায়, সেই পথের ভাড়া বেড়ে হয়ে যায় কয়েকগুণ! এ বছরের অবস্থা আরও খারাপ। শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে গাবতলী গিয়ে দেখা গেল, আরিচাগামী বাসগুলো ‘একদাম’ ৪০০ টাকা ভাড়া হাঁকিয়ে বসে আছে। তা শুনে কোনো কোনো যাত্রী ফিরে যাচ্ছেন বিরস বদনে। কেউ কেউ এত ভাড়া শুনে হেলপারের সঙ্গে বাকবিত-াতেও জড়িয়ে পড়ছেন। তবে তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই বাসের হেলপার-চালকদের, তারা ৪০০ টাকা ভাড়া না পেলে যাত্রী তুলতে নারাজ। অধিকাংশ বাসের হেলপার-চালকরা বলছেন, রাস্তায় যে পরিমাণ জ্যাম, তাদের যেতে-আসতে প্রচুর সময় লাগে। দিনে একটির বেশি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া যাওয়ার সময় বাসভর্তি যাত্রী থাকলেও ফিরতে হয় খালি গাড়ি নিয়ে। সে কারণেই তারা ‘একটু বেশি’ ভাড়া আদায় করে ‘পুষিয়ে নেওয়া’র চেষ্টা করছেন। অস্বাভাবিক এই ভাড়ায় ঈদে ঘরে ফিরতে মরিয়া মানুষদের জিম্মি হয়ে পড়তে হচ্ছে। তবে এর চেয়েও বেশি ভুগতে হচ্ছে আরিচা-পাটুরিয়া কিংবা মানিকগঞ্জের ওই এলাকার বাসিন্দাদের। ঈদযাত্রা নয়, তাদের নিত্য যাতায়াতের পথেই যে এভাবে পকেট কাটা পড়ছে!

শেয়ার