শালিখায় জমিজমা বিরোধে মোটরসাইকেল চুরির মামলা

শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি ॥ শালিখায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে মোটরসাইকেল চুরির মিথ্যা মামলা দিয়ে ২ নীরিহ যুবককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই মিথ্যা মামলায় কূচক্রিমহলকে সহযোগীতা করার জন্য শালিখা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বসবাস করেন কলেজ ক্যাম্পাস লাগোয়া তার ক্রয়কৃত ৩৪ শতক জমির ওপর করা নিজ বাড়িতে। তার প্রতিবেশী রবিউল আলম মিলন (ক্লিনিক মালিক) ও সোহাগ হাসান সন্ধি (সাংবাদিক), পিতা মৃত, করিম মোল্যা, মাতা আঞ্জুমান আরা। গত বিশ বছর আগে পিতা করিম মোল্যা মারা গেছেন। তারপর থেকে এই খলিলুর রহমান জমাজমি সংক্রান্ত বানোয়াট ঝামেলা সৃষ্টি করে কখনো পুলিশ, কখনো মাস্তান প্রকৃতির লোকজন দিয়ে তাদের পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। কারণ হিসেবে আঞ্জুমান আরা জানান, তিনি পথের জন্য ২ শতক জমি ছেড়ে দিয়েছেন অনেক আগে থেকেই। পরবর্তীতে খলিলুর রহমান তার বাড়িতে প্রাচীর দিয়েছেন পথের জন্য ছেড়ে দেয়া প্রায় ২ শতক জমিই দখল করে। এরপর তিনি দাবি করছেন পথ বাবদ উপরি জমি দিতে হবে। এটা দিতে অস্বীকার করায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে।
২০১৩ সালে হঠাৎ একদিন আঞ্জমান আরা ডাক্তার দেখাতে গিয়ে, বাড়ি এসে দেখেন তার উঠোনের অর্ধেক জায়গা দখল করে খুঁটি পুতে রেখে গেছে। তখন তিনি জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে সে খুঁটিগুলো তুলে দিতে সক্ষম হন। তারপরও থেমে থাকেননি খলিলুর রহমান। বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে তার নীল নকশা।
এরপরে কতিপয় অচেনা বখাটে ছেলেদের দিয়ে ৪০/৫০টি মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন এই খলিলুর রহমান। গত ৩০ জুলাই, ১ ও ২ আগস্ট আঞ্জুমান আরার বাড়িতে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশের বক্তব্য ‘খলিল একজন ক্ষমতাশালী লোক। তার সাথে ঝামেলা করলে আপনি এখানে থাকতে পারবেন না। তারচেয়ে নিজেরা ঝামেলা মিটিয়ে নিন। নইলে আমাকেই ব্যবস্থা নিতে হবে আপনার বিরুদ্ধে।”
এ ঘটনার পরের দিন রাতে খলিলুর রহমানের বাড়ি থেকে তার মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে মর্মে একটি সাজানো মামলায় মিলন ও সোহাগকে সন্দেহভাজন আসামি করে। এনিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেশীরা জানান, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা সাজানো মনে হচ্ছে। মামলা করার পরদিন তিনি পথের জায়গা দাবি করে অফিসের লোক পাঠিয়েছেন কথিত আসামিদের বাড়িতে। এতে আসামিপক্ষ রাজি না হওয়ায় সরাসরি উল্লেখিত দুই ব্যক্তিকে আসামি করে চূড়ান্ত মামলা দায়ের করেন। এতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে পরিবারটি।

শেয়ার